একটি ‘ আইফোন’এবং নৃশংসতার করুন কাহিনি!
20 Sep 2026 • সারাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক|দৈনিক জনতার দেশঃ
মায়ের কাছ থেকে আইফোন নিয়ে ১৩ বছরের অপ্রতিম বের হয়েছিল—বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে, একটু ঘুরবে, তারপর হয়তো হাসিমুখে বাড়ি ফিরে আসবে।
কিন্তু সেই ছোট্ট শিশুটি আর ফিরল না।
একজন ‘মা’ যে সন্তানকে নিজের হাতে আইফোন দিয়ে বলেছিলেন, “যাও, সাবধানে থেকো”—সেই মা কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন, এটাই হবে সন্তানের সঙ্গে তাঁর শেষ বিদায়?
আটক তুহিন, আনাস ও ফাহিমের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় কীভাবে? তাদের সঙ্গে কি আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল? সিসিটিভিতে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা গেছে—তুহিন কি তার পূর্বপরিচিত ছিল?
আনাস যদি সত্যিই অপ্রতিমের সঙ্গে ইনবক্সে কথা বলে থাকে, সেই কথোপকথন কী ছিল? অপ্রতিম কার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করত? ঘটনার আগে শেষ কার সঙ্গে কথা হয়েছিল?
একটি শিশুর শেষ কয়েক ঘণ্টার প্রতিটি মুহূর্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি যোগাযোগ, প্রতিটি পরিচয়, প্রতিটি ফুটেজ—সবকিছুর উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।
কারণ অপ্রতিম শুধু একটি নাম নয়। সে কারও আদরের সন্তান, কারও বুকের ধন, কারও পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।
আমাদের ছোটবেলায় বাবা-মা জানতেন আমরা কোথায় যাচ্ছি। চাচা-চাচি জানতেন, প্রতিবেশীরা জানতেন। একটু দেরি হলেই মা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতেন।
আজ সময় বদলেছে। সন্তানের হাতে স্মার্টফোন আছে, অনলাইন দুনিয়া আছে, নতুন নতুন পরিচয় আছে। তাই সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কার সঙ্গে ফোনে বা অনলাইনে কথা বলছে—সেটা জানা এখন আরও জরুরি। সেই দায়িত্ব বোধে পিছুটান হলেই ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা অপ্রতিমের মতো।
সন্তানকে ভয় দেখাবেন না—তার বন্ধু হয়ে উঠুন।
শুধু শাসন নয়—সময় দিন।
শুধু প্রশ্ন নয়—তার কথা মন দিয়ে শুনুন।
অপ্রতিমের মৃত্যুর নির্মোহ সত্য দ্রুত বেরিয়ে আসুক। আবেগ নয়, গুজব নয়—প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য সামনে আসুক। দায়ী যে-ই হোক, আইনের আওতায় আসুক।
আর কোনো মা যেন সন্তানের হাতে নিজের আইফোন তুলে দিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে না থাকেন—
“আমার সন্তানটা কখন ফিরবে?”
অপ্রতিমের মায়ের সেই অপেক্ষার মতো নির্মম অপেক্ষা যেন আর কোনো মায়ের জীবনে না আসে।
অপ্রতিমের জন্য সত্য চাই।
তার পরিবারের জন্য ন্যায় চাই।
আর কোনো শিশুর জন্য এমন পরিণতি চাই না।
ছবি:
সংগৃহিত ( ছবিতে অপ্রতিম কে আদর করছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম,সহযোগী অধ্যাপক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ)।
বি.দ্র.
মন্তব্য প্রতিবেদনটির, আলোচক মো: মাজহারুল পারভেজ,সিনিয়র সাংবাদিক ও ব্যবস্হাপনা সম্পাদক, দৈনিক নিখাঁদ খবর।
