একাত্তরের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মসমর্পণের অন্তরা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী’র ভাষ্য!
11 Sep 2026 • সারাদেশ

হিস্টোরিক্যাল ডেস্ক|জনতার দেশঃ
আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রাক্তন লেফট্যানেন্ট জেনারেল। পূর্ব পাকিস্তানে তিনি সর্বশেষ গভর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসক এবং পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক হাই কমান্ডের সর্বশেষ কমান্ডার। তিনি একটা বই লিখেছেন নাম “বিট্রেয়াল অফ ইষ্ট পাকিস্তান”। সে বইয়ের বাংলা অনুবাদের ৩৪৩ নাম্বার পাতায় লিখা আছে
“যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়েস্টার্ন গ্যারিসনের ভূমিকাই ছিল মুখ্য। প্রতিরক্ষা ধারণার মূল কথা ছিল যে, সময়মতো ও কার্যকরভাবে এ ধারণা প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে, সময়মতো ও কার্যকরভাবে এ ধারণা কাজে লাগানো হয়নি। ইয়াহিয়া খান ৩ ডিসেম্বর বিলম্বিত যুদ্ধ শুরু করেন। মাত্র কয়েক দিনের যুদ্ধে তিনি সাড়ে ৫ হাজার বর্গমাইল ভূখণ্ড হারান। তিনি যুদ্ধ শুরু করতে ১৩ দিন বিলম্ব করেন। এ ফাঁকে ভারতীয় সেনাবাহিনী ইস্টার্ন ফ্রন্টে তাদের অবস্থা সংহত করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়ে যায়। সাড়ে ৫ হাজার বর্গমাইল ভূখণ্ড দখল করার পর ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে সামরিক ভারসাম্য ভারতীয়দের অনুকূলে চলে যায়।
ভারতীয়রা মারালার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে এবং রেল বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে অবস্থান গ্রহণ করে। করাচি বাদবাকি পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও ওয়েস্টার্ন গ্যারিসন শোচনীয় অবস্থায় পতিত হয়। টিক্কার মানসিক দুর্বলতার জন্য বহুল প্রত্যাশিত হামলা ইচ্ছিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়। ইস্টার্ন গ্যারিসন এক বিস্তৃত সেনাবাহিনী হিসেবে লড়াই করে। এ গ্যারিসনকে এর নিজের হাই কমান্ড পরিত্যাগ করেছিল।
ইস্টার্ন গ্যারিসনের আত্মসমর্পণ সকল পক্ষ—মুজিব, ভুট্টো, ইয়াহিয়া ও পরাশক্তিগুলোর মনঃপূত হয়। কী চমৎকার পরিকল্পনা! মুজিব স্বাধীন বাংলাদেশের এবং ভুট্টো খণ্ডিত পাকিস্তানের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবেন। অধিকতর বিপর্যয় ঘটার আগে পশ্চিম পাকিস্তানকেও রক্ষা করতে হবে। পশ্চিম পাকিস্তান রক্ষায় ইস্টার্ন গ্যারিসনের এ অসম্মানকে ক্ষুদ্র মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক গভীর চক্রান্ত কার্যকর করা হয়। পশ্চিম পাকিস্তান রক্ষা পায়। তবে খড়গ পতিত হয় ইস্টার্ন গ্যারিসনের মাথার ওপর। দাবার ছকে শুধু পূর্ব পাকিস্তানের নয়; পশ্চিম পাকিস্তানের রণাঙ্গনেও পরাজয় ঘটেছে।”
তথ্য ও ছবি:
#সংগৃহিত।
