মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026 · 00:44
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

গভীর রাতে রাজধানীর লালমাটিয়ায় কিশোর গ্যাং মুন্না বাহিনীর তাণ্ডব নৃত্য!

04 Sep 2026 • কিশোর অপরাধ।

গভীর রাতে রাজধানীর লালমাটিয়ায় কিশোর গ্যাং মুন্না বাহিনীর তাণ্ডব নৃত্য!

ক্রাইম ডেস্ক: রাজধানীর  বিপণি বিতান,ফাস্ট ফুডের দোকান,অলি-গলি,ফুটপাত, বিনোদন পার্ক সব জায়গা উঠতি বয়সের তরুন’ কিশোর গ্যাং’ এর দখলে।দল বেধেঁ তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মার্কেট,বিনোদনপার্ক,স্কুল – কলেজের সামনে আড্ডা দেয়।এই গ্রুপের প্রত্যেকেই মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে। পরিবার থেকে উচ্ছন্নে যাওয়া এই কিশোররা নেশার টাকা যোগাতে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,ধনাঢ্য ব্যক্তিকে টার্গেট করে চাঁদাবাজি করে থাকে।কাঙ্ক্ষিত চাঁদা বা নগদ টাকা দিতে অস্বীকার করলেই তাদের ওপর নেমে আসে অত্যারের স্টিম রোলার।তাদের কোমরে থাকে অত্যাধুনিক অস্ত্র।তাদের সাথে তর্কে জড়ালে খুন করতেও দ্বিধা করেনা। কিশোরগ্যাং এর দৌরাত্ম্য দেশের প্রতিটি শহর,নগর,বন্দর ছাড়িয়ে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

শুধু কিশোর নয়, অসংখ্য মাদকাসক্ত কিশোরী এই দলের সদস্য। ওদের নগদ টাকা দিয়ে কোন পণ্য কিনতে হয়না।বিশেষ করে শহর এলাকায় খাবারের সময় তারা দলবেঁধে হোটেল রেস্টুরেন্টে ঢুকে খাবার খেয়ে অনর্থক বয়-বেয়ারাদের সাথে কথাকাটি মারামারি পরিস্থিতি তৈরি করে খাবারের বিল পরিশোধ না করে চলে যায়।

অনেক সময় সংঘ বদ্ধ হয়ে বাসা-বাড়িতে ডাকাতি করে।

প্রত্যেক এলাকায় তারা কোন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের শেল্টারে থাকে।বড় ভাইয়ের নির্দেশে এলাকার পরিবহন স্ট্যাণ্ড,বাজার,ফুটপাত,থেকে চাঁদা ওঠায়।কোন এলাকায় নতুন বাড়ি হচ্ছে, কোন মালিকে বাড়ি বানাচ্ছে, ডেভেলপার কে ইত্যাদির তথ্য নিয়ে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়ে শেল্টার দাতা বড় ভাইয়ের নির্দেশে।তাছাড়া যখন যে সরকার আসে সেই দলে ভীড়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে ক্ষমতার আধিপত্য জাহির করে।

এমনই একটি কিশোর গ্যাং এর হামলার শিকার
লালমাটিয়ার “কে জে প্রোপারটিজ” নামের একটি আবাসন ব্যবসায়ী পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই গভীর রাতে ব্যবসায়ী পরিবারটি পুরান ঢাকা থেকে লালমাটিয়ার বাসায় ফিরছিলেন। বাসার গেটের কাছে পৌছালে ভ্যান মোটরসাইকেল ও গাড়ি দিয়ে চারিদিক তাদের প্রাইভেট কারের গতিরোধ করা হয়। গতিরোধের  কারণ জানতে চাইলে প্রথমে গাড়িতে থাকা সদস্যকে মারধোর করা হয় গাড়ি থেকেটেনে হিছড়ে নামিয়ে কোন কারণ ছাড়াই কিল ঘুষি মারা শুরু হয়। পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রতিবাদ জানালে দুর্বৃত্তরা রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। এই হামলায় ব্যবসায়ী পরিবারের তিন ভাইসহ মোট ৭ জন আহত হন দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়।তখন রাত আড়াই টা বাজে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মোহাম্মদপুর থানায়  একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তঃ
যদিও ভুক্তভোগীর পরিবার এটিকে স্থানীয় কিশোর গ্যাং কে  চাঁদা না দেওয়া শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করছে তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ওঠে এসেছে বিপরীত চিত্র। এ নিয়ে পুলিশ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে একটি মামলার তদন্ত নিয়ে ন্যায় বিচারের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পুলিশের দাবি, (মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ওসির মতে এলাকায় মুন্না বাহিনী নামে কোন কিশোর গ্যাং বা অস্তিত্ব নেই। পুলিশের মতে এটি মূলত একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তাৎক্ষণিক বিরোধ। গভীর রাতে ব্যবসায়ী পরিবারের গাড়িটি গেটের সামনে একটি রিকশা কে ধাক্কা দিলে তর্কাতর্কি  শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা মারামারিদের রূপ নেয়। কিন্ত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,ধাক্কা যদি লেগেও থাকে সেটা রিকশা ওয়ালার সাথে।গাড়িতে ছিল পাঁচজন বসা একজন রিক্সাওয়ালার পক্ষে এত গুলো মানুষ কে রক্তাক্ত জখম করা কি সম্ভব? রিক্সা ওয়ালার কাছে অস্ত্র সস্ত্র এলো কোত্থেকে? ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে  অনেকগুলো মারমুখী কিশোর। তারা কারা? যখন তাদের কে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারা হচ্ছিল তখন ভিডিও চিত্রে একজন মহিলাকে ২০ মিনিট ধরে তাদের বাঁচানোর জন্য পুলিশ কে আকুতি জানাচ্ছে অথচ পুলিশের কোন সহায়তা পাচ্ছেনা। ঘটনার ভিডিও চিত্র দেখে অনেকেই বলছেন স্রেফ ডাকাতির উদ্দেশ্যেই গাড়ি থামাতে সংকেত দেয়া হয়েছিল গাড়ি না থামাতে এই হামলা।

এলাকাবাসী বলছেন,গভীর রাতে চিল্লা চিল্লির কারণে মানুষ জন জেগে ওঠায় তারা সাকসেস হতে পারেনি।জানা গেছে,মুন্না লালমাটিয়া বিবি মসজিদ এলাকার একটা বখাটে ছেলে। সে ১৫/২০ জন কিশোর নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দেয় নেশা করে।সে রাত আড়াইটায় এই মহল্লায় ১০/১২ জন কিশোর নিয়ে কি করছিল?

সেদিন পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকা নিয়ে অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।  বর্তমানে দেশের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে দেশবাসী উদ্বিগ্ন।

আরও পড়ুন

বাউফলে (পটুয়াখালী) কিশোর গ্যাং এর ৩ সদস্যকে কারাগারে প্রেরণ। :