ডিবির হারুন সহ চাকরি হারাতে যাচ্ছেন ৬৩ পুলিশ কর্মকর্তা!
24 Sep 2026 • সারাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | জনতার দেশঃ
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত, দুর্নীতি, অসদাচরণ ও নাশকতার অভিযোগে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ৬৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া জোরালো করেছে সরকার।
এই তালিকায় সাবেক পুলিশ সুপার(এসপি) ডিআইজি এবং অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন।
ইতোমধ্যে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক এসপি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল আলম সহ ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত ভাবে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২০২৪ সালের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর যারা পলাতক রয়েছেন তাদের মধ্যে ৩৩ জন কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ছাত্র জনতার উপর বেআইনিভাবে গুলি চালানো এবং পতিত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাদের অনেকেই পার্শ্ববর্তী দেশ সহ আমেরিকা ও ইউরোপে পালিয়ে গেছেন। কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি।
পলাতক এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত রংপুরের সাবেক অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহানুর আলম পাটুয়ারী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি নূরে আলম মিনা, রাজশাহী রেঞ্জের এসপি জেসমিন কেকা ও আয়েশা সিদ্দিকা প্রমুখ।
পলায়ন ছাড়াও অসদাচরণ দুর্নীতি ও নাশকতার অভিযোগে আরো বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ হারুনুর রশিদ, সাবেক ডিআইজি কাজী মনিরুজ্জামান এবং একে এম এহসানউল্লাহর মত আলোচিত কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত মোহাম্মদ মেহেদী হাসান সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাশকতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জুলাই আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কিছু কর্মকর্তার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও চলছে। ট্রাইবুনালের রায়ের উপর ভিত্তি করেই এসব কর্মকর্তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল (বিধিমালা ২০১৮) অনুসরণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসব শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশের পর সন্তোষজনক জবাব না মেলায় চাকুরী চ্যুতির চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত বরখাস্তের আগে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মতামত এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে অন্তত ১৫ টি সারসংক্ষেপ পিএসসি ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত বরখাস্ত হওয়ার ছয় কর্মকর্তাঃ
১.মোঃ আসাদুজ্জামান, সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) ঢাকা জেলা
২.মোহাম্মদ জাহিদুল আলম, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)
৩.আরিফুর রহমান মণ্ডল, সাবেক পুলিশ সুপার,সিরাজগঞ্জ
৪.মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন, (সাবেক এসপি) এন্টি টেরোরিজম ইউনিট।
৫.রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগ
৬.পলাশ রঞ্জন দে, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এপিবিএন – ৭ সিলেট।
২৩সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তাঃ
৭.গোলাম মোস্তফা রাসেল, সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) নারায়ণগঞ্জ।
৮.হাসান আরাফাত সাবেক অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি)ডিএমপি পদোন্নতি প্রাপ্ত এসপি।
সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে দরখাস্ত হওয়া ৪ কর্মকর্তাঃ
৯.সঞ্জিত কুমার রায়, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ডিএমপি।
১০.মানস কুমার পোদ্দার -সাবেক উপ পুলিশ কমিশনার ডিসি (ডিএমপি)।
১১.হাফিজ আল ফারুক সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
প্রক্রিয়া দিন ৬৩ জনের তালিকায় থাকা অন্যান্য সম্ভাব্য পুলিশ কর্মকর্তাঃ
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী যে ৬৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের তদন্ত ও চাকরি চ্যুতির প্রক্রিয়া চলছে সেই তালিকায় সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। তালিকার থাকা উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন*
*আনিসুর রহমান
*প্রলয় কুমার জোয়ারদার
*হাসানুজ্জামান মোল্লা
*এস এম মেহেদী হাসান সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ডিএমপি।
*মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক এসপি গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ
*তারেক বিন রশিদ সাবেক এসপি লক্ষ্মীপুর।
*শ্যামল কুমার অতিরিক্ত ডিআইজি টুরিস্ট পুলিশ
*সৈয়দ নুরুল ইসলাম সাবেক ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার মতিঝিল ডিসি) আন্দোলন দমনে বিতর্কিত ভূমিকা ও অসদাচরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত।
*সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক এসপি, বগুড়া
*কাজী মনিরুজ্জামান সাবেক ডিআইজি (ডিএমপি) তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও আন্দোলনের সময় অসদাচরণের গুরুতর প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
*হাসানুজ্জামান মোল্লা এপিবিএন এর সংযুক্ত ডিআইজি
*আবু মারুফ হোসেন, সাবেক এসপি
*কে এম ইমরান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জামালপুরের সাবেক জেলা কমান্ডেন্ট।
*আতিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি পুলিশ সদর দপ্তর।
*মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সাবেক ডিআইজি, পুলিশ সদর দপ্তর।
*মনিরুল ইসলাম সাবেক অতিরিক্ত আইজি এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ এসবি প্রধান।
*হাবিবুর রহমান সাবেক ডিএমপি কমিশনার।
*আলী আশরাফ ভূঁইয়া, সাবেক (পুলিশ সুপার) শৃঙ্খলা ভঙ্গিত অনুপস্থিতির দায়ে অভিযুক্ত।
*মোঃ শাজাহান সাবেক পুলিশ সুপার এসপি রংপুর
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকা হাইওয়ে পুলিশের সাবেক এডিশনাল ডিআইজি মীর মোদাচ্ছের হোসেনের নথি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মৌলভীবাজারের ২৪ আনসার ব্যাটালিয়নের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের খসড়া অভিযোগনামা ও জবাবের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।
*মীর মুদাসসের হোসেন, এডিশনাল ডিআইজি (ঢাকা হাইওয়ে)।
*মোঃ কামাল হোসেন সাবেক (এসপি গাইবান্ধা)
*মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, এডিশনাল ডিআইজি পুলিশ অধিদপ্তর।
*মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন উপ পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রো।
*মোহাম্মদ রাজিব ফারহান সাবেক এসপি পিবিআই গাইবান্ধা।
*মোহাম্মদ আপেল মাহমুদ (এএসপি) নাটোর সার্কেল
*রুবাইয়াত জামান সাবেক আরপি এমপি রংপুর
*এএসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
*শাহ আলম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
*মোহাম্মদ আকতারুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
*ইফতেখারুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
*রওশানুল হক সৈকত অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার ডিএমপি।
*এস এম শামীম উপ পুলিশ কমিশনার ডিএমপি।
*মফিজুর রহমান পলাশ সহ পুলিশ কমিশনার ডিএমপি
*ইমরুল সরকারি পুলিশ সুপার
*নাহিদ ফেরদৌস,সহকারি পুলিশ সুপার।
*এস এম ফজলুল হক, ঠাকুরগাঁও ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার এর সাবেক কমান্ডেন্ট।
*মোহাম্মদ শিবলি কায়সার, সাবেক উপ পুলিশ কমিশনার রংপুর
*মোঃ রহমতউল্লাহ সাবেক পুলিশ সুপার কক্সবাজার
নোট: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি অনুযায়ী সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত একদিনে শেষ হয় না। তাইএই ৬৩ জনের তালিকা থেকে প্রতি সপ্তাহে দুই তিন জন করে কর্মকর্তার চূড়ান্ত বরখাস্তের আলাদা গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছে।
তথ্য সূত্রঃ
#স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রজ্ঞাপন পত্র।
