নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং ইতিহাসের অজানা তথ্য”
26 Sep 2026 • সারাদেশ

বিনোদন ডেস্ক|জনতার দেশঃ
নবাব সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুর পর প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় এবং ব্রিটিশ—উভয় ইতিহাসবিদদের কাছেই তিনি একজন খলনায়ক বা নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সমসাময়িক ফার্সি ইতিহাসবিদ গোলাম হোসেন তাবাতাবাই তাঁর ‘সিয়ার-উল-মুতাক্ষেরিন’ গ্রন্থে সিরাজকে একজন উদ্ধত, নিষ্ঠুর, লম্পট এবং অদূরদর্শী তরুণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ব্রিটিশরা তাকে ‘অন্ধকূপ হত্যা’র (Black Hole Tragedy) খলনায়ক হিসেবে প্রচার করেছিল।
কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কয়েকজন বাঙালি হিন্দু লেখক, ঐতিহাসিক এবং নাট্যকারের হাত ধরে সিরাজউদ্দৌলা এক ‘মহান দেশপ্রেমিক’ এবং ‘ট্র্যাজিক হিরো’-তে পরিণত হন।যাঁরা সিরাজকে মহানায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রধান কয়েকজন হলেন।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়: ১৮৯৮ সালে তিনি ‘সিরাজদ্দৌলা’ নামে একটি যুগান্তকারী গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। তিনিই প্রথম জোরালোভাবে ব্রিটিশদের তৈরি ‘অন্ধকূপ হত্যা’র গল্পকে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত বলে প্রমাণ করেন। তিনি সিরাজকে একজন নিষ্ঠুর স্বৈরাচারের বদলে ষড়যন্ত্রের শিকার এক দুর্ভাগ্যবান দেশপ্রেমিক শাসক হিসেবে তুলে ধরেন। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বইটির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
গিরিশচন্দ্র ঘোষ: ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তিনি ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকটি রচনা করেন। এই নাটকটি সিরাজকে আপামর বাঙালির কাছে এক মহান জাতীয় বীরে পরিণত করে। নাটকে সিরাজের দেশপ্রেম এবং মিরজাফর-ঘসেটি বেগমদের বিশ্বাসঘাতকতা এত আবেগপূর্ণভাবে ফুটে উঠেছিল যে, ব্রিটিশ সরকার ভয় পেয়ে নাটকটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
নবীনচন্দ্র সেন: তাঁর ‘পলাশীর যুদ্ধ’ (১৮৭৫) মহাকাব্যে সিরাজউদ্দৌলার পতন এবং বাংলার স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অত্যন্ত করুণ ও আবেগময় ভাষায় ফুটিয়ে তোলা হয়, যা সাধারণ মানুষের মনে সিরাজের প্রতি গভীর সহানুভূতি তৈরি করে।
শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত: ১৯৩৮ সালে তাঁর লেখা ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকটি মঞ্চ ও পরবর্তীতে যাত্রাপালার মাধ্যমে সিরাজকে বাংলার ঘরে ঘরে এক আবেগের প্রতীকে পরিণত করে।
তথ্যসূত্র:
# পলাশীর যুদ্ধ,নবীনচন্দ্র সেন
# ‘ সিরাজদ্দৌলা’নাটক শচীন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত
ছবি#সংগৃহিত।
