নাসিরনগরে ১২দিন ধরে নিজের ঘরে অবরুদ্ধ মন্টু কর্মকার,থমকে গেছে জীবনযাত্রা।
20 Aug 2026 • অপরাধ।

খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে একটি সংখ্যালঘু পরিবার গত ১২ দিন ধরে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বসতঘরের সামনে বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় টয়লেট ও টিউবওয়েলে যাওয়ার রাস্তাও আটকে গেছে,ধমকে গেছে জীবনযাত্রা।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, হরিপুর ইউনিয়নের মন্টু কর্মকারের সঙ্গে প্রতিবেশী রফিক মিয়ার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দাবি-পাল্টা দাবি রয়েছে।
এর জেরে গত ৯ আগস্ট সকালে রফিক মিয়ার লোকজন মন্টু কর্মকারের বসতঘরের সামনে বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ।
পরিবারটি থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিনের বেড়া কিছুটা সরিয়ে দেয়। এতে ঘর থেকে বের হওয়ার সামান্য সুযোগ তৈরি হলেও বাঁশের বেড়া এখনো রয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
মন্টু কর্মকার বলেন, ‘জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। বসতঘরের সামনে বেড়া দিয়ে আমাদের আটকে রাখা হয়েছে, টয়লেট ও পানির পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের সরকার প্রধান ও নাসিরনগরের এমপি হান্নান সাহেবের কাছে – আমার প্রাণের আকুতি আমি আমার পূর্ব পুরুষের ভিটায় বসবাস করতে চাই।
মন্টু কর্মকারের স্ত্রী সূবর্ণা কর্মকার জানান, বেড়া দেওয়ার কারণে তাঁদের ব্যবহৃত টিউবওয়েল ও টয়লেটে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। খাবার পানি সংগ্রহের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে পরিবারটি চরম দুর্ভোগে রয়েছে। তাঁরা দ্রুত বেড়া সরিয়ে চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবির জানিয়েছেন।
প্রতি পক্ষে রফিক মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বলেন,আমরা কারো জায়গায় বেড়া দেই নি, আমরা আমাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছি।
এ ঘটনায় নাসিরনগর থানার এস আই মনির আহমেদ বলেন,আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারটির ঘরের দরোজায় অবরুদ্ধ করে রাখা বাঁশের বেড়া সরিয়ে দিয়ে পরিবারটিকে চলাচলের সূযোগ করে দিয়েছি। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলছে বলে জেনেছি।
