প্রশাসন নির্বিকারঃ সারাদেশে হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলছে অভিযোগের তীর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপির ওপর!
06 Sep 2026 • সারাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট|জনতার দেশ:
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজদের একটি তালিকা তৈরি করেছে।চাঁদাবাজদের একটি বড় অংশ ঢাকা মহানগর এলাকায় কেন্দ্রীভূত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এমনকি কোটি টাকারও বেশি চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যমে ওঠে এসেছে। চাঁদা না পেয়ে গুলি করা, হামলা চালানো, ব্যবসায়ীদের জিম্মি করার মতো ঘটনা প্রতিরোধে সারাদেশে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সারাদেশে শীর্ষ চাঁদাবাজ ৬৯১ জন। তার মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে ৩২৪ জন। দেশে প্রতিদিন গড়ে খুনের রেকর্ড বর্তমানে ২০ জন।গত ৩ মাসে ( জুন -জুলাই আগস্ট) খুনের রেকর্ড ন ১২০০।অর্থাৎ গড়ে প্রতিমাসে সারা দেশে খুন হচ্ছে ৪০০ জন মানুষ। জানা গেছে,এদের মধ্যে পারিবারিক অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব, সামাজিক বিরোধ, এলাকার আধিপত্য এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খুন হচ্ছে ৬০ শতাংশ আর বাদ বাকি ৪০ শতাংশ মানুষ খুন হচ্ছে সন্ত্রাসি চাঁদাবাজদের কাঙ্ক্ষিত চাঁদার টাকা দিতে না পারা কিংবা না দেওয়ার জন্য।
চাঁদাদাবির তথ্য জানাতে চালু হওয়া ওয়েবসাইট ‘Chanda bd.com’এ গত তিন মাসে ২১ হাজার৩৭৬ অভিযোগ পত্র জমা পড়েছে।যার দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ৪৬০ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৪০১ টাকা।
বিভাগ ভিত্তিক হিসাবে অভিযোগ ও দাবীকৃত অর্থ উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষ স্হানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। ঢাকায় ১ হাজার ৬ শত ৯২ টি অভিযোগে) ১৮২ কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বেনামি ইমেইলের মাধ্যমে চালু হওয়া ‘চান্দা বিডি ডট কম’ কারা পরিচালনা করছেন তার তথ্য জানা যায়নি। সাইটে যারা অভিযোগ জানান তাদের পরিচয় ও প্রকাশ করা হয় না।
অভিযোগের দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রাম, তৃতীয় স্থানে রাজশাহী।
চট্টগ্রামে অভিযোগ বেশি হলেও দাবীকৃত অর্থ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে রাজশাহী ও রংপুরে অভিযোগ কম হলেও টাকার অংক তুলনামূলকভাবে বেশি
‘Chandra bd.com’ এ অভিযোগ জমা দিতে কোন একাউন্ট বা লগইনের প্রয়োজন হয় না। এখানে অভিযোগকারী নাম, ফোন নাম্বার কিংবা ইমেইল ঠিকানাও চাওয়া হয় না।
বিভাগ জেলা উপজেলা বা থানার আনুমানিক অবস্থান ঘটনার ধরণ দাবিকৃত অর্থ ফলাফল ও বিস্তারিত বিবরণের পাশাপাশি প্রমাণের ছবি ও যুক্ত করা যায়।
‘চান্দা বিডি ডট’ কমে প্রকাশিত তথ্য মূলত ব্যবহারকারীদের বেনামে জবাব জমা দেওয়ার অভিযোগ।
* চাঁদাবাজিতে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা শীর্ষে*
সারাদেশে অরাজকতা, নৈরাজ্য, চাঁদাবাজিতে শীর্ষে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠন।শীর্ষে যুবদল, ছাত্রদল শ্রমিক দলের নেতা কর্মি। পুলিশ কে সাথে নিয়ে ও চাদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। গত ১৪ আগস্ট মিরপুরের রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া এলাকার নির্মাণাধীন একটি বাড়ির সামনে গিয়ে ভেতরে কর্তব্যরত নির্মাণ শ্রমিকদের গালমন্দ করতে থাকেন বিএনপি নেতারা এ সময় পুলিশের দুজন সদস্য তাদের ছিল (তথ্য এশিয়া পোস্ট ১৪ আগস্ট ২০২৬)।
দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠলে সংবাদ কর্মীরা বিএনপি’র শীর্ষ নেতা জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেনঃ
চাঁদাবাজরা কারো কথা শুনেনা, পুলিশের সাথেই তাদের বেশি সখ্যতা।যার কারণে তারা থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে
( মুক্তমঞ্চে এক টকশাতে এ কথা বলেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ)
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহাখালী বাস টার্মিনালের কতিপয় আন্ত:জেলা বাস চালকের সংগে কথা হলে তারা দৈনিক জনতার দেশকে জানায়,মহাখালী বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল, গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সব গুলি এখন বিএনপির যুবদল,শ্রমিক দল, ছাত্রদল নেতাদের দখলে।দৈনিক ওই স্ট্যাণ্ড গুলো থেকে ২ কোটি টাকার ওপরে নেতাদের চাঁদা দিতে হয়।প্রতিটি বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাবার সময় ২৪০ টাকা করে নেতাদের চাঁদা দিতে হয়।তারপর সিরিয়াল-টোকেন বাণিজ্যতো আছেই।
টার্মিনাল ছেড়ে রাস্তা কিংবা হাইওয়েত গেলে সেখানে ট্রাফিক পুলিশ কে গাড়ি প্রতি ১০০ টাকা নজরানা দিতে হয়।তারপর ঘাটে ঘাটে আছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন।তাদের কে ও খুশি করতে হয়।সবাই বিএনপি ঘেষা রাজনীতির লোক।
তাদের চান্দাবাজির কারণে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ।তারা আরো বলেন,এটা শুধু বাস টার্মিনাল চিত্র।তাছাড়া রয়েছে অটো স্ট্যান্ড-টেম্পু স্ট্যাণ্ড,ঢাক শহরে যাতায়াত কারী বাস,লেগুনা। যেমন – বলাকা,অনাবিল,সালসাবিল,হিমাচল,তুরাগ,পরীস্হান,বিহঙএমন নামে বেনামে কয়েক হাজার পরিবহন চলে রাজধানী শহরে। সেখানে থেকেও দৈনিক ২/৩ কোটি টাকা চাঁদা বাজি হয় বলে জানা গেছে।
শুধু কারওয়ান বাজার থেকেই দৈনিক দেড় কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয় বলে জানা গেছে।তাছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার, মাছের আড়ৎ,ফলের আড়ৎ,ইলেকট্রিক মার্কে়ট,গুলিস্তান, বঙ্গবাজার,মিরপুরের বিভিন্ন বিপনি বিতান,প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল,গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চকবাজার,জিঞ্জিরা,কেরানীগঞ্জ,হাজারিবাগ ট্যানারি,বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবন, হোটেল রেস্টুরেন্ট,বিভিন্ন শিল্পকারখানা ফুটপাতের অস্হায়ী বাজার থেকে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির রেকর্ড রয়েছে। প্রতিমাসে খোদ রাজধানী ঢাকা শহর থেকেই ৩ হাজার কোটি টাকা চাঁদা হিসাবে নেতাদের দিতে হয় বলে ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে। কোন দলের নেতাদেরকে চাঁদা দিতে হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জনতার দেশ কে জানিয়েছেন, আগে আওয়ামীলীগের নেতারা নিয়েছে এখন বি,এন পির।আপনারা প্রতিবাদ করেন না? এমন প্রশ্নোত্তরে তারা জানান,চাঁদা না দিলে তারা গুলি করে মেরে ফেলবে।দেখেন নাই মিটফোর্ডে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে চায়নি,পরে তারে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় কিভাবে পিটিয়ে মেরেছে?
বিএনপি নেতাদের কে ঘিরে সারাদেশে চাঁদাবাজির ভাইরাল দৃশ্য বিভিন্ন প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া গুলোতে প্রকাশিত হওয়ায় বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার
সক্ষমতা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একদিকে বিদ্যুত নেই,গ্যাস নেই জ্বালানি তেল,সয়াবিন তেলের মূল্য আকাশচুম্বী এহেন অবস্থায় দলীয় চাঁদাবাজি মরার ওপর খরার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এভাবে দেশ চলতে থাকলে সরকার পতনের জন্য রাজপথে গণআন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দল ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতা কর্মিরা। তারা গতকাল ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে (১১ দলীয় ঐক্যজোট)এই নৈরাজ্যের প্রতিবাদ সহ তাদের ৬ দফা কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিলেটের উদ্দেশ্য লংমার্চ যাত্রা শুরু করেছেন।লং মার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা জামাতের আমীর ডা: শফিকুর রহমান।
ছবি: প্রতীকি চিত্র।
