বুধবার, 28 অক্টোবর 2026 · 03:09
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

বানের জলে ভাসছে স্বপ্ন: উত্তরের জনপদে নামছে ঘোর অমানিশা।

13 Jul 2026 • প্রাকৃতিক বিপর্যয়।

বানের জলে ভাসছে স্বপ্ন: উত্তরের জনপদে নামছে ঘোর অমানিশা।

 
​নিজস্ব প্রতিবেদক|জনতারদেশ :
প্রকৃতি আজ যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। শ্রাবণের অঝোর ধারায় সিক্ত হচ্ছে বাংলার জনপদ, কিন্তু এই বৃষ্টি এখন আর প্রশান্তি নয়, বরং বয়ে আনছে এক ভয়াবহ দুঃসংবাদ। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, দেশের প্রতিটি প্রান্তে মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে। আকাশের এই কান্না যেন থামার নয়। একদিকে আকাশভাঙা বৃষ্টি, অন্যদিকে নদ-নদীর ফুলেফেঁপে ওঠা পানি—সব মিলিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ আজ এক চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
​বন্যা তথ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ শঙ্কা আমাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। উত্তরের তিনটি জেলার অন্তত চারটি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তলিয়ে যাচ্ছে ফসলের মাঠ, পানির নিচে চলে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদ। যে ঘরটিতে মানুষ রাতের ঘুমে স্বপ্ন বুনেছিল, আজ সেখানে থইথই করছে বানের জল। গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয়হীন মানুষের হাহাকার আর নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি—এ যেন এক চিরচেনা কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তব।
​উত্তরাঞ্চলের মানুষ আজ দিশেহারা। রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হাতের কাছে শুকনো খাবার নেই, সুপেয় পানির তীব্র সংকট আর রোগবালাইয়ের আতঙ্কে দিন কাটছে মা-বাবা আর শিশুদের। নদীপাড়ের মানুষের আর্তনাদ আজ আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলেছে।
​সময় এসেছে পাশে দাঁড়ানোর
এই দুর্দিনে একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠাই এখন আমাদের প্রধান কর্তব্য। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। ত্রাণ নয়, বরং ভালোবাসা আর সহমর্মিতা নিয়ে এই বিপদ মোকাবিলা করতে হবে।
​বন্যা কোনো একক দুর্যোগ নয়, এটি একটি জাতীয় সংকট। উত্তরের এই জনপদ যেন নিঃস্ব না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করছি, প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ত্রাণ, চিকিৎসা এবং শুকনো খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে। সেই সাথে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
​আসুন, মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াই। উত্তরের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের সম্মিলিত শক্তিই হতে পারে শেষ ভরসা। প্রকৃতি শান্ত হোক, আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসুক আমাদের উত্তরাঞ্চলের জনপদ—এই আমাদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন

নদীভাঙ্গনের কবলে বিলুপ্ত প্রায় বাউফলের তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

টুঙ্গিপাড়ায় পানিতে ডুবেছে ঘরবাড়ি, কবরস্থান, রান্নাঘর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী শতাধিক পরিবার, রান্না বন্ধ—সাপের আতঙ্কে রাত কাটছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১০৮ পরিবারকে সরকারি অনুদান।

পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত: আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ।

নদী ভাঙ্গন রোধে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ব্যতিক্রম ধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ এবং স্হানীয় প্রশাসন।

চট্টগ্রামের পাহাড়কান্নায় ভারী বর্ষণ আর মানুষের লোভের থাবা: ৫৪ প্রাণহানির খলনায়ক কে?