মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র নীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা!
11 Sep 2026 • সারাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক|জনতার দেশঃ
সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তি এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বা এর প্রভাব নিয়ে পররাষ্ট্র নীতিতে কিছুটা আলোচনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে এই মুহূর্তেএই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নতুন কোন দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার কোন পরিকল্পনা বা প্রক্রিয়া নেই।
পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথভাবে ও নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তিটি স্বাক্ষর করে।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে, এই মুহূর্তে চুক্তিতে বাংলাদেশকে বা অন্য কোন নতুন দেশকে নেওয়ার কোন চিন্তা নেই।
দৈনিক যুগান্তর, ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ধরনের জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া না হওয়া নিয়ে যে ধরনের বিশ্লেষণ চলছে এবং তা দেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যের উপর এর প্রভাব ফেলতে পারে কী,না তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
* নতুন দেশ অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে পাকিস্তানের স্পষ্টবার্তা*
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে এই মুহূর্তে নতুন কোন দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেই।
গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও পাকিস্তানের নতুন বিবৃতির পর স্পষ্ট হয়েছে যে জোটের পরিধি এই মুহূর্তে বাড়ছে না।
কারণ জোটের মূল অবকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৃদ্ধি সম্পূর্ণরূপে শক্তিশালী না হওয়া পর্যন্ত তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশ নিজেদের মধ্যেই সহযোগিতা সীমাবদ্ধ রাখবে। প্রাথমিক কাজ শেষ হলে পরবর্তীতে একই দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন অন্যান্য দেশের যোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই জোটের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুক্তির অধীনে একটি বিশেষ কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বর্তমানে চুক্তির রাজনৈতিক অঙ্গীকার গুলোকে বাস্তব সম্মত সামরিক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার কাজ করছে।
জোটের কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, এটি সম্পূর্ণ একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যা কোন নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে তৈরি করা হয়নি। ন্যাটোর আর্টিকেল- ৫ এর আদলে ঘটিত এই চুক্তির মূল শর্ত হলো সদস্য ৩ দেশের যে হকোনো একটির উপর হামলা হলে তা সবার উপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানগাটি ও জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামুল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর বড় ধরনের ড্রোন ও সামরিক হামলা হওয়া সত্বেও এর জবাবে জোট গত কোন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আপাতত আলোচনা হচ্ছে না বলে পাকিস্তান জানিয়েছে।
সংক্ষেপে চুক্তিটি বর্তমানে চূড়ান্ত অবকাঠামো গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশ সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যেই এর প্রথম ধাপের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখছে।
তথ্যসূত্র
#দি ডেইলি স্টার
#বিবিসি নিউজ বাংলা
#বাংলা নিউজ ২৪
#দৈনিক ইত্তেফাক
ছবি: সংগৃহিত।
