মগবাজারে আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালে ১১ নবজাতকের অকাল মৃত্যু আকিজ গ্রুপের মালিকানাধীন এই হাসপাতালটির একসময় অন্যতম ফাউন্ডার এবং ডোনেট পার্সন ছিলেন ব্যারিস্টার রফিকুল হক বর্তমানে এখানে নেই কোন দায়বদ্ধতা সম্পুর্ণ অনিয়ম অব্যবস্হাপনায় জর্জরিত হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ।
02 Jun 2026 • অনিয়ম/দুর্নীতি /অব্যবস্হাপনা।

এ,কে আজাদ খন্দকার :
আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল- আকিজ গ্রুপের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম ফাউন্ডার ও ডোনার ছিলেন ব্যারিস্টার রফিকুল হক! ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ছিলেন! ব্যারিস্টার রফিকুল হক যতদিন জীবিত ছিলেন ও হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালনার সাথে জড়িত ছিলেন- ততদিন এই হাসপাতালটির সার্ভিস ও সেবার মান যথেষ্ট উন্নত ও গ্রহণযোগ্য ছিল! ব্যারিস্টার রফিকুল হক এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২০২০ সালে। কলকাতা চব্বিশ পরগনা অবস্থায় একটি রাজনৈতিক পরিবারের জন্মগ্রহণকারী রফিকুল হকের পিতা একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং তিনি ২৪ পরগনা জেলার মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান ছিলেন একসময়! এছারাও ব্যারিস্টার রফিকুল হকের বাবা ২৪ পরগনা জেলার জেলা মুসলিম লীগের সভাপতিও ছিলেন! কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় ব্যারিস্টার রফিকুল হকের সাথে বঙ্গবন্ধুর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয় ! কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যারিস্টার রফিকুল হক ক্রিমিনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করলেও ইংল্যান্ডে হিন্দু ল নিয়ে ব্যারিস্টারি করেছিলেন। ব্যারিস্টার রফিকুল হকের তত্ত্বাবধানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়- চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয়- হিন্দু ল বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়! কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের বেকার হোস্টেলে ব্যারিস্টার রফিকুল হক ও বঙ্গবন্ধু পাশাপাশি রুমে থাকতেন! ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যখন সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট তখন- ব্যারিস্টার রফিকুল হক কলকাতা যুব কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন- ইন্দিরা গান্ধীর সাথে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল! ফার্মগেটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালটি ব্যারিস্টার রফিকুল হকের দাদার করা প্রতিষ্ঠান! এছাড়াও স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে- ঢাকা শিশু হাসপাতাল- সুবর্ণ ক্লিনিক ও হাসপাতাল- বারডেম হাসপাতাল- আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল- প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধুর জমি দিয়েছিলেন আর রফিকুল হক ও অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে- তত্ত্বাবধায়ন ও পরামর্শে হাসপাতালগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল! ব্যারিস্টার রফিকুল হকের স্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার ফরিদা হক বাংলাদেশ তথা এই অঞ্চলের গুটি বসন্ত বিলুপ্তিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন- বিধায় আন্তর্জাতিকভাবেও ফরিদা হক গুটি বসন্ত নিয়ে কাজ করে সারা বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন! ব্যারিস্টার রফিকুল হকের চার ভাই বোনের সবাই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন- তার বড় ভাই একসময় ঢাকার পুলিশ কমিশনার ছলেন! ১৯৯০ সালে ব্যারিস্টার রফিকুল হক বিনা পরিশ্রমিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন! ব্যারিস্টার রফিকুল হক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব- সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান- খালেদা জিয়া- শেখ হাসিনা ও এরশাদেরও আইনজীবী ছিলেন!আইন পেশা ও তার পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত সকল সম্পত্তি তিনি এদেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য দান করে গেছেন নির্দ্বিধায়! কাকতালীয় হলেও সত্যি ব্যারিস্টার রফিকুল হকের পরিবারের সকল সদস্যই ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বরণ করেছেন! মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালটির বর্তমান বেহাল অবস্থা ব্যারিস্টার রফিকুল হকের মত মানুষের অনুপস্থিতি ও আকিজ গ্রুপের কর্ণধার শেখ মোহাম্মদ বশির উদ্দিন- শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনদে’র হাসপাতাল মাধ্যমে সুযোগ বুঝে রমরমা বাণিজ্য করার মানসিকতার বহিঃপ্রকাশই হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী। বাংলাদেশের আইন অঙ্গনের একজন আইডল ও পরিচিত মুখ- সর্বজন শ্রদ্ধেয়- চিকিৎসা ও মানবতার সেবায় ৬০ বছরের আইন পেশা থেকে উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে দান করা- দানবীর ব্যারিস্টার রফিকুল হক স্যার ও তার দানশীল পরিবারের সকল সদস্যকে সৃষ্টিকর্তা পরকালে ভালো রাখুক সেই কামনা নিরন্তর।
