পাবনা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবাকারীদের ‘অমানবিক’ রূপ: নেপথ্যের সিন্ডিকেট নিয়ে জনমনে প্রশ্ন।
04 Jul 2026 • অনিয়ম/দুর্নীতি /অব্যবস্হাপনা।

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনা | ৪ জুলাই, ২০২৬
পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যে নৈরাজ্য চলছে, হাসপাতালের ফটোচিত্রে স্পষ্ট হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমাদের কাছে সংরক্ষিত বিভিন্ন অডিও /ভিডিও ফুটেজে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মচারীদের চরম অপেশাদার, অমানবিক ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের চিত্র উঠে এসেছে, যা সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগীদের স্বজনদের সাথে কিছু কর্মচারী অত্যন্ত অশালীন ও রূঢ় আচরণ করছেন। সেবাপ্রত্যাশীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টার মতো দৃশ্যগুলো সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পড়েছে। একজন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে তাদের যে দায়িত্বশীল হওয়ার কথা ছিল,সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার উল্টো চিত্রই ফুটে উঠেছে। এটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং মাসের পর মাস চলা সেবার নামে হয়রানির একটি জ্বলন্ত দলিল।
প্রশাসনের নীরবতায় নেপথ্যে ‘সিন্ডিকেট’
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, জরুরি বিভাগে কর্মরত এই কর্মচারীদের একটি শক্তিশালী চক্র বা ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এদের খুঁটির জোর এতোটাই বেশি যে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খান। সাধারণ রোগীদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া বা প্রভাব খাটাতে না পারলে সেখানে রোগীকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয় না। প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার অভাব এবং তদারকি সেলের নিস্ক্রিয়তাই এই সিন্ডিকেটকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।
পাবনাবাসীর দাবি ও প্রশ্ন
ভিডিও ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার পর এখন মানুষের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন—কার প্রশ্রয়ে এবং কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে জরুরি বিভাগের কিছু কর্মচারী এতোটা বেপরোয়া? মানুষ এখন হাসপাতালের সেবার পরিবেশ পরিবর্তন ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেখতে চায়।
কর্তৃপক্ষের নিকট জনদাবি:
*দায়ী ও দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা।
.* জরুরি বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
* জরুরি সেবার মানোন্নয়নে কঠোর প্রশাসনিক তদারকি সেল গঠন করা।
পাবনা জেনারেল হাসপাতাল কোনো ব্যক্তিগত আখের গোছানোর জায়গা নয়; এটি মানুষের প্রাণ বাঁচানোর প্রতিষ্ঠান। ভিডিও ফুটেজটি এখন প্রমাণ করছে, এখানে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পাবনাবাসী এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
