আগামীর বাংলাদেশ: বিশ্বমঞ্চে স্বনির্ভরতার নতুন ইশতেহার ও উত্তরণের অভীষ্ট লক্ষ্য।
17 Jul 2026 • উন্মুক্ত কলাম/প্রতিবেদন।

নিউইয়র্ক থেকে বিশেষ প্রতিনিধি| মো: সোহেল:
উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির স্বপ্ন আজ কেবল ভূ-রাজনীতির টেবিলেই সীমাবদ্ধ নেই, তা রূপান্তরিত হয়েছে কোটি মানুষের আস্থার প্রতীকে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার বৈঠকগুলো সেই আস্থার জায়গাটিকে করেছে আরও সুদৃঢ়। এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ শুধু প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর আবেদনই করেনি, বরং বিশ্বকে দেখিয়েছে নিজের কাঠামোগত সংস্কারের অদম্য ইচ্ছা।
বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক রূপকল্প :
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অত্যন্ত নিপুণ কৌশলে বৈশ্বিক নেতাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, এলডিসি থেকে উত্তরণ কোনো দ্রুত তাড়াহুড়োর বিষয় নয়; এটি একটি টেকসই প্রক্রিয়ার নাম। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের এই ক্রান্তিলগ্নে তিন বছরের বর্ধিত সময়কে তিনি বাংলাদেশের ‘অপরিহার্য প্রয়োজন’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার এই অবস্থান কেবল সরকারের নয়, এটি দেশের আপামর মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতিফলন।
রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অঙ্গীকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে, জি-৭৭-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কৌশল নিয়ে ‘বিশেষ ব্রিফিং’-এর প্রস্তাব প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য এক রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও আগামীর সম্ভাবনা :
বৈঠকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে যে ঐকমত্য ফুটে উঠেছে, তা হলো—সুশাসন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশই হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল যেভাবে বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনাগুলোকে তুলে ধরেছেন, তা বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। বিজিএমইএ ও লেদারগুডস খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আমাদের রফতানি খাত এখন আর কেবল ব্যবসার ক্ষেত্র নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড।
”ইতিহাসের পাতায় অনেক সময় আমরা দেখি, উত্তরণ ঘটে কিন্তু স্থায়িত্ব থাকে না। বাংলাদেশ সেই ভুলটি করতে চায় না। এলডিসি উত্তরণের পথটি মসৃণ ও টেকসই করার যে অঙ্গীকার রাষ্ট্র করেছে, তা সাধারণ মানুষের হৃদয়ের স্পন্দনকে ধারণ করে।
নিউ ইয়র্কের এই বৈঠকগুলোকে আমি দেখি একটি বৃহত্তর কর্মযজ্ঞের সূচনালগ্ন হিসেবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের দূরদর্শী কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে সংস্কারের পথে হাঁটার এই যে অঙ্গীকার, তা এক নতুন দিনের বার্তা নিয়ে আসছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিবের ভাষায় যখন শুনি ‘ফলপ্রসূ বৈঠকের’ কথা, তখন একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি দেখি—বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের পথে।
আমরা চাই, এই উত্তরণ যেন কেবল পরিসংখ্যানের খাতায় না থাকে; তা যেন দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। সংস্কার মানেই তো আগাছা পরিষ্কার করে ফসলের জন্য জমি তৈরি করা। এই সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে তার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে এবং প্রমাণ করবে—আমরা আর কারো মুখাপেক্ষী নই, আমরাই পারি নিজের ভাগ্য নিজের হাতে গড়তে। উন্নয়ন আজ আর কোনো স্বপ্ন নয়, বরং অদূর ভবিষ্যতের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমরা বিশ্বকে বলছি—বাংলাদেশ প্রস্তুত, বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য।”
