আমাদের নিজেদের স্বার্থে মুসলিম বিশ্বেরঐক্য জরুরি —- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান!
30 Aug 2026 • সারাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক|জনতার দেশঃ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ঐক্য ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন মুসলিম বিশ্বের ঐক্যই শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট তেহরানের সামিট হলে অনুষ্ঠিত ৪০ তম আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পেজেস্কিয়ান বলেন, ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ আলী খামিনি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি প্রতিষ্ঠার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। তার মতে ইসলামী ঐক্যই মুসলিম উম্মার স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রধান কৌশল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে । তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর চালানো আগ্রাসনে নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইরান দৃঢ়ভাবে সেই আগ্রাসনের মোকাবেলা করেছে।
পেজেস্কিয়ান জোর দিয়ে বলেন কোন মুসলিম দেশের নিরাপত্তা প্রতিবেশী দেশের অনিরাপত্তার উপর নির্ভরশীল হওয়া যেমন উচিত নয়, একইভাবে কোন মুসলিম দেশের ভূখণ্ড অন্য মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, ‘অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো অপারেশন’ (ওআইসি)এর ৫৭ টি মুসলিম রাষ্ট্রে দুই বিলিয়নেরও বেশি মুসলমান বসবাস করে। এসব দেশের রয়েছে বিপুল জ্বালানি সম্পদ, কৌশলগত বাণিজ্য পথ, বৃহৎ বাজার, তরুণ জনশক্তি এবং উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা।
তবে এসব শক্তিকে এখনো ইচ্ছা শক্তি ও কার্যকর ক্ষমতায় রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র -ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে পেজেস্ক্রিয়ান বলেন, ইরান সংঘাতের সূচনা করেনি বরং আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে। তবে আত্মরক্ষার অর্থ প্রতিবেশী বা অন্যান্য মুসলিম দেশের প্রতি বৈরিতা নয়। তিনি বলেন, কোন ইসলামি ভূখণ্ড অন্য কোন ইসলামী দেশের বিরুদ্ধে প্ল্যাটফর্ম হতে পারেনা।
তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ফিলিস্তিনের প্রতি ইরানের সমর্থনকে নিপীড়িত জনগণের পক্ষে অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেন। যা, কোন সাম্প্রদায়িক বিবেচনার উপর ভিত্তি করে নয়।
এছাড়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও অনাক্রমণ চুক্তি, ওআইসির অধীনে স্হায়ী মধ্যস্ততা ও সংঘাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।
“ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ আলী হোসাইনি খামিনির চিন্তায় ইসলামী ঐক্য” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ৪০ তম আন্তর্জাতিক ইসলামিক সম্মেলন আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তেহেরান, কোম ও মাশহাদে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি আজারবাইজান, কুর্দি স্থান গুলিস্তান ও রাজাভি
গুলিস্তান, খোরাসান প্রদেশেও বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন সম্মেলনের লক্ষ্য হলো ইসলামী ঐক্য, শান্তি নিরাপত্তা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করা।
একই সঙ্গে ইসলামী পরিচয় সুশাসন অর্থনৈতিক সহযোগিতা সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননের ইস্যুগুলোও এতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
তথ্যসূত্র:
# তেহরান বার্তা সংস্হা( ইর’না)
# পাকিস্তান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘ডন’ নিউজ
# বিবিসি বাংলা
# ডেইলি স্টার বাংলা
# দৈনিক সমকাল
ছবি: সংগৃহিত।
