মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026 · 19:18
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

আমার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিম আওয়ামীলীগে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন–ভারতীয় গণমাধ্যম “দ্যা ওয়াল” কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা!

07 Sep 2026 • রাজনীতি

আমার অনুপস্থিতিতে  শেখ সেলিম আওয়ামীলীগে  সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন–ভারতীয় গণমাধ্যম “দ্যা ওয়াল” কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা!

নিউজ ডেক্স|দৈনিক জনতার দেশঃ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতের সংবাদ মাধ্যম “দ্য ওয়াল” কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখন ‘শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য’ আমার অনুপস্থিতিতে তিনি এই দায়িত্ব পালন  করবেন।

ছোট বোন শেখ রেহানা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।
‘দ্যা ওয়াল’ এর এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকার এর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায়  তাঁর দেশে ফেরা,  ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।তবে দেশে ফিরলে বিমানবন্দরই  তাকে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেক মানুষের  জীবনের ঝুঁকি আছে, আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাইনা।
তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
বাংলাদেশের জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে  বলে দাবি করেন শেখ হাসিনা। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।
তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এ কারণে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত সরকার কী  ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করলো, তারেক কে ফিরিয়ে আনলো সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তাঁর মতে, কোন সামরিক জোটের  পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এ সময় তারেক রহমানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন আমি তো তাকে বাধা দেইনি। এখন আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ?
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দরকষাকষি বাংলাদেশের জন্য সম্মানজনক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। দেশের পরিস্থিতি তাকে কতটা ব্যথিত করেছে তা বুঝাতে তিনি বলেন, “আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ”

দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তন কে কেন্দ্র করে অন্য কারো জীবন যাতে ঝুঁকিতে না পরে সেই আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দেশে ফেরার জন্য সরকার ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দিলে কীভাবে ফিরবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “দেশটাআমার, আমার বাবা এ দেশটা স্বাধীন করেছে। আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। আর রাজনীতি তো আমি স্কুল জীবন থেকেই শুরু করেছি। সেখানে কেন আমাকে ফিরতে দেবে না সেটাই আমার প্রশ্ন।”  তিনি আরো বলেন,  বিএনপি সরকার ভারত সরকারের কাছে তাকে ফেরত দেওয়ার কথা বলছে। তাঁর বক্তব্য যখন ফেরত দেওয়ার কথা বলছে
তখন ফেরত কেন?  আমি নিজেই যাব।

দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে অন্য কোনভাবে প্রবেশ করবেন কী, না — এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে অনুকূল নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারেরও সমালোচনা করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিকে “মেটিকোলাস ডিজাইন “বলে মন্তব্য করেন তিনি।আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন , আমি দেশের মানুষের কাছে যাব। মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে,মার খাচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে,  তাদের পাশে আমাকে দাঁড়াতে হবে। এতে
যদি আমার জীবনও যদি চলে  যায় যাবে, কিন্তু আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,  দেশ ছেড়ে আসার ইচ্ছা তার ছিল না এবং কি ঘটতে যাচ্ছে তাও তিনি আগে জানতেন না।

শেখ হাসিনার ভাষ্যঃ
একটি সংকটময়  পরিস্থিতিতে আমাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে।  হেলিকপ্টারে করে সীমান্ত পার হওয়ার পর আমাকে  জানানো হয়  আমরা ভারতে যাচ্ছি। এর আগে পর্যন্ত আমি  মনে করেছিলাম  আমাদের কে গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি তো মানুষের জীবন মানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন? আমি বললাম, আমার থাকার দরকার নেই আমি চলে যাব।এক সময় জানলাম আমি এখন ভারতের মাটিতে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা তার দাবি আমার নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ মামলা দেওয়া হয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, যত জঙ্গি সন্ত্রাসী ছিল তাদেরকে তারা ছেড়ে দিয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট । এরপর বিভিন্ন থানায় হামলা অগ্নিসংযোগ এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং পুলিশের সদস্যদের ওপর সহিংসতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এসব বক্তব্যের বিষয়ে সাক্ষাৎকারের শেখ হাসিনা তার নিজস্ব ব্যাখ্যা ও দাবি তুলে ধরেছেন।
ডিসেম্বর এর আগেই দেশে ফেরার মত পরিস্থিতি তৈরি হলে ফিরবেন কী,না –এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বর মাসটি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই বেছে নিয়েছেন। এ প্রসংগে তিনি বলেন,ডিসেম্বর মাসটি বেছে  নেয়ার কারণ হলো ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়ঃ  এখন আমি আমার তৃণমূলের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদেরকে কোপায়, মারে অত্যাচার করে নির্যাতন করে।এই অরাজকতা  চলছে দেশে। তারপরও এই অবস্থায় মানুষ আমার সঙ্গে কথা বলে।দেশে ফেরার প্রসংগে তিনি বলেন, ‘আগে নয়,
ডিসেম্বর মাসেই যাব আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ছবিঃ সংগৃহিত।
তথ্যঋণ:
#দৈনিক ইত্তেফাক।

তথ্য সূত্রঃ

# ‘ দ্যা ওয়াল’ ইন্ডিয়ান গণমাধ্যম।

আরও পড়ুন

জাতীয় নারী শক্তি নামে এনসিপির নতুন নারী কমিটি গঠন!

আগামী পাঁচ বছর এই জাতীয় সংসদ টিকবে কী’ না, সন্দেহ রয়েছে সন্দেহ রয়েছে —এন সি পি নেতা নাহিদ ইসলাম!

নির্বাচিত হলে সার খোলা বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করবঃ মির্জা ফয়সল আমিন!

ফুলবাড়ীতে জেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ!

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ, ১৯ অক্টোবর সশরীরে হাজিরার নির্দেশ!

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ!