কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা কাণ্ডে দুই অভিযুক্ত সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করেছে পুলিশের আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত সংস্থা “ইন্টারপোল”!
04 Sep 2026 • সারাদেশ

ক্রাইম ডেস্ক |জনতার দেশ :
বুধবার ২ সেপ্টেম্বর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে পলাতক দুই অভিযুক্ত আন্তর্জাতিকভাবে সনাক্ত এবং তাদের অবস্থান নির্ণয় এবং দেশের আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের লক্ষ্যে( পিবিআই) এর অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম তথ্য নথি পত্র যাচাই-বাছাই করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল।
তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই দু’জনকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ঘটনার পূর্ববর্তী পর্যায়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিলে তাদের নমুনা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয় তবে তাদের অবস্থান অজ্ঞাত, তারা পলাতক রয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে অভিযুক্ত মোঃ জাহিদুজ্জামান (৪৮) ঘটনার সময় সার্জেন্ট এবংশাহীন আলম (৩৭) সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে এ মামলায় গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন।তনু হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় তনু সেনা নিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর ফেরেননি। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের ভিতরে পাওয়ার হাউজের কাছে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ইতিহাস বিভাগে অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতিয়মান হয়।
পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক( অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ারউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর ২০১৬ সালে ৪এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ( পি বি আই) এর তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।একটি নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই সেনা সদস্য জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম সৌদি আরবে অবস্হান করছেন।ইন্টারপোলের মাধ্যমে অতি দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনতে পিবিআই কাজ করছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র:
#বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ।
ছবি: সংগৃহিত।
ইনসেটে: বাম থেকে শাহীন আলম তার পাশে জাহিদুজ্জামান ও সোহাগী জাহান তনু।
