পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন ক্ষুধার্ত মানুষের ঘরে খাবার; অন্যের হাসিতেই নিজের সুখ খুঁজে পান ওয়াজেদ হোসেন কচি।
05 Jul 2026 • মানবতার ফেরিওয়ালা।

আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রচার-প্রচারণার আলো থেকে দূরে থেকে টানা পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যায় অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের দুয়ারে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন আলমডাঙ্গার সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী ওয়াজেদ হোসেন কচি। প্রতিদিন ১৮০ থেকে ২০০টি খাবারের প্যাকেট বিতরণের পাশাপাশি অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়, ওষুধ, জরুরি সহায়তা এমনকি প্রয়োজন অনুযায়ী গৃহনির্মাণেও সহযোগিতা করে তিনি স্থানীয়দের কাছে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় রান্না করা খাবার বিভিন্ন এলাকায় অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। কোনো দিন ডাল-ভাত, কোনো দিন মাছ, আবার কোনো দিন মাংস থাকে খাবারের তালিকায়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই কার্যক্রমের ফলে বহু দরিদ্র পরিবারের খাদ্যসংকট অনেকটাই লাঘব হয়েছে। বিশেষ করে কর্মহীন, বয়স্ক, অসুস্থ এবং রেললাইনের আশপাশে বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত মানুষ নিয়মিত এই সহায়তা পাচ্ছেন।
খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে থাকেন ওয়াজেদ হোসেন কচি। অনেক ক্ষেত্রে অসহায় পরিবারের জন্য গৃহনির্মাণেও সহযোগিতা করা হয়। তাঁর এই সহায়তায় অনেক পরিবার নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কোনো প্রচার কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই বছরের পর বছর নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও সামাজিক দায়বদ্ধতার কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে।
জানা যায়, ওয়াজেদ হোসেন কচি একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী হিসেবেও পরিচিত। তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের আলমডাঙ্গা শাখার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মানবকল্যাণে ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গত ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাত থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন তিনি।
ওয়াজেদ হোসেন কচি বলেন, “মানুষের মুখে হাসি দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আল্লাহ যতদিন সামর্থ্য দেবেন, ততদিন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
সমাজসেবায় তাঁর এই নিরলস অবদান আলমডাঙ্গাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, নীরবে-নিভৃতে মানবসেবার এমন উদ্যোগ শুধু ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে আহারই তুলে দিচ্ছে না, সমাজে সহমর্মিতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করছে।
