বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা বৃদ্ধি ঝুঁকিতে উপকূলীয় নৌযান মৎস্যজীবী ও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলার!
09 Sep 2026 • সারাদেশ

মো: মাহবুবুর রহমান খান :
বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা সম্প্রতি আশঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশেষ করে উপকূলীয় মৎস্যজীবী গভীর সমুদ্রে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার গুলোর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালে সুন্দরবন ও তদসংলগ্ন এলাকাকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করা হলেও বেশ কিছু নতুন দস্যুবাহিনী এবং স্থানীয় অপরাধী চক্রের তৎপরতা বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুনরায় জোরদার করা হয়েছে।
*জেলে ও ট্রলারের উপর সহিংস আক্রমণ*
২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারে জলদস্যদের গুলি চালিয়ে আহত করা এবং ট্রলারের জ্বালানি তেল ও জালসহ মালামাল লুটের ঘটনা গণমাধ্যমে ওঠে এসেছে।
*টোকেন সিস্টেম ও চাঁদাবাজি*
সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন চ্যানেলে জেলেদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা বা টোকেন নিয়ে চাঁদাবাজি করছে সাগরে প্রবেশ করলে ট্রলার সহ জেলেদের অপহরণ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
*অপহরণ ও মুক্তিপণাদায়*
অভিযোগ রয়েছে, মাঝি-মাল্লাদের ধরে নিয়ে গিয়ে তাদের পরিবারের কাছে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করা হয় চাঁদা না দিলে জেলেদের লাশ সাগরে ফেলে দেয়ার মত নৃশংস ঘটনাও ঘটছে। বিগত বছর খানেক ধরে এই অপতৎপরতা আগের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে গণমাধ্যম সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্হা গুলোর প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে।
*উপকূলীয় বনাম গভীর সমুদ্রের অপরাধ*
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের ‘আউটার অ্যান্করেজে’বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নজর দারির কারণে ডাকাতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গভীর সমুদ্র এবং কক্সবাজার,মহেশখালী,সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া নোয়াখালীর উপকূল সহ বরগুনা পটুয়াখালী সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকা গুলোতে হামলার ঘটনা অনেক বেশি।
জলদস্যুতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ সমূহ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের অগভীর ক্রিক(খাঁড়ি)ও অসংখ্য দ্বীপের কারণে অপরাধীদের আত্মগোপন করা সহজ হয়। বিশাল সমুদ্র সীমায় কোস্টগার্ড ও নৌ বাহিনীর নিয়মিত টহলের জন্য আধুনিক স্পিডবোর্ড ও পর্যাপ্ত লজিস্টিক্সের সংকট
রয়েছে। সুন্দরবনের পুরনো ও আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা শান্ত থাকলেও স্থানীয়ভাবে নতুন ছোট বড় চক্র যেমন সন্দ্বীপ,মহেশখালী,কুতুব দিয়ায় আমির বাহিনী, মিল্টন বাহিনী, আপেল হাজী বাহিনী, জাকির বাহিনী
-বাহিনী তৈরি হয়েছে যারা আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে।তারা প্রকাশ্যেই একে৪৭,একে ৫৬ রাইফেল নিয়ে গভীর সমুদ্রে টহল দিয়ে বেড়ায় বলে অসংখ্য মাছ ধরার ট্রলারের মৎস্যজীবীরা গণমাধ্যম কে এই তথ্য জানিয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরের রুট হয়ে অন্যান্য দেশ থেকে মাদক যেমন ইয়াবা ও আইস পাচারের টা্রনজিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া এই রুটে অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধমূলক সিন্ডিকেটের তৎপরতা বেড়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নৌ টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য কোস্টগার্ড নৌ-বাহিনী এবং rab সহ যৌথ বাহিনীর গভীর সমুদ্রে নিয়মিত কম্বিং অপারেশনের অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই সাথে সকল জলদস্যু দের গ্রেপ্তার করে কঠিন শাস্তির পাশাপাশি সমুদ্রের বিশাল উপকূল এবং জলসীমা কে দাবি জলদস্যু মুক্ত করত: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
তথ্য ঋণ:
#The Business Standard
#The Financial Express
# The Dhaka Tribune
#www.daily-Sun.Com
বি.দ্র.
প্রতিবেদক, সম্পাদক – প্রকাশক,দৈনিক জনতার দেশ (অনলাইন পোর্টাল)।
