বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়তে চায় —পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির!
14 Sep 2026 • জাতীয় সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার |জনতার দেশ :
গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক সফর নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বক্তব্য দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ভারতের সাথে সম্পর্কের’ ‘রিসেট’ বা নতুন করে পথচলা শুরু করতে চায়। বিগত ১৫ বছরের সম্পর্ককে স্বৈরাচারী দুর্নীতিগ্রস্ত এবং শোষণ মূলক শাসন ব্যবস্থার অধীনে ‘একটি অস্বস্হিকর সম্পর্ক’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন দিপাক্ষিক সম্পর্কে রূপান্তর ঘটাতে আগ্রহী।
গণমাধ্যম ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন আমাদের ভারত মুগ্ধতা (India fascination)থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন ভারত কেবলই আমাদের একটি প্রতিবেশী দেশ সারাক্ষণ শুধু ভারতকে নিয়ে ভাবার কোন প্রয়োজন নেই, বরং নিজেদের দেশ নিয়ে ভাবা এবং স্বাধীন মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করা উচিত ।
ইদানিং ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের যোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান , বাংলাদেশ বহু পাক্ষিক কোন ফোরামের আড়ালে নয়, বরং সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সাথে নতুন সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। তিনি ইঙ্গিত দেন যে একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে এবং প্রধান বিষয়গুলোতে দুই দেশ একমত হতে পারলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর একটি সুনির্দিষ্ট দিপাক্ষিক সফর হিসেবেই হওয়া উচিত, কোন বহু পাক্ষিক সম্মেলনের “সাইড লাইন” হিসেবে নয় । তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও রূপরেখা তুলে ধরবেন নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে তিনি বিশ্ব নেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন।
বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার অভিযোগ এবং তা পুনরুদ্ধারে সরকারের আন্তর্জাতিক তৎপরতা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন,পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারে আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ করছি। সম্পদ চিহ্নিত এবং প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছে। তাছাড়া এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সহজ করতে আইনি এবং ফরেন্সিক দক্ষতা সম্পন্ন অন্যান্য দেশের সাথেও সরকার যোগাযোগ রক্ষা করছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। সফরকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই সমাধান এবং বিভিন্ন সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ কিভাবে আরো কার্যকর ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায় সেই রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেতথ্যপ্রযুক্তি তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নতুন আশার সঞ্চার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরা হবে।
সফরকালে রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারে থাকবে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ একটি উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা ও “সাইড ইভেন্ট” আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইসুতে একটি সাইড ইভেন্ট আয়োজন করব। দীর্ঘস্হায়ী সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রাখতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক সহ সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক সাধারণত শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়।
তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে’ ভাষণ দেওয়া।
হুমায়ুন কবির জানান, সফরকালে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনা করবে। চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া বৈঠকগুলোর বিস্তারিত যথাসময়ে জানানো হবে।♦
ছবি:
সংগৃহীত।
