বালিয়াডাঙ্গীতে জিআর চাল বরাদ্দে ইউএনও’র স্বাক্ষর জালের অভিযোগ।
19 Jun 2026 • অনিয়ম/দুর্নীতি /অব্যবস্হাপনা।

নয়ন হোসেন
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে জিআর চাল বরাদ্দ পেতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে।
ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা হারুন অর রশিদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করা এক লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, থানা ঈদগাহ দারুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানার প্রধান হাফেজ মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ২১ মে ২০২৫ তারিখে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস(পিআইও) কার্যালয় হতে ৫৯৩ নং স্মারকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত এতিমদের খাদ্য সহায়তা বাবদ বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের দাবি, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রেরিত তালিকায় তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম সংযোজন করা হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন।এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গেলে ইউএনও অন্জন কুমার দাস তাঁর স্বাক্ষর করা সুপারিশ পত্রটি পরিবর্তন করে জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি দেখতে পান।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে, যার ফলে প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হারুনসহ তার চক্রটি গোটা জেলায় নতুন নতুন ভুয়া ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বানিয়ে শর্ত সাপেক্ষে বরাদ্দ এনে দিচ্ছে।জানাগেছে,এতে বরাদ্দের অর্ধেক প্রতিষ্ঠান অর্ধেক এ চক্রটি নিয়ে নিচ্ছে।অভিযোগকারীরা
বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে হাফেজ হারুন অর রশিদ জানান,আমি ইউএনও’র স্বাক্ষর জালে জড়িত নই।
বালিয়াডাঙ্গী জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ ইসমাইল হোসেন বলেন,ইউএনও’র সাক্ষর জাল করাসহ শর্ত সাপেক্ষে বিভিন্ন জনকে প্রকল্প পাইয়ে দিতে দালালী করেন হাফেজ হারুন।শর্তে রাজি না হলে জিআর এর চাল পায়না কোন প্রতিষ্ঠান।
মাদ্রাসা প্রধান আব্দুল হামিদ জানান,হাফেজ হারুন অর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি চক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।তাঁর সংগে আরো দুই তিন জন জড়িত।হারুনসহ তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আনলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারীদের মধ্যে বড়পলাশবাড়ী ইসলামিক আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কুসুমউদ্দীন জানান, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষা পাবে।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অন্জন কুমার দাস বলেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।আমার স্বাক্ষর জাল চক্রের সংগে কারা বা কে জড়িত তা দ্রুত বের করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
