বেইজিং – মস্কোর সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ভারতের আপত্তির কারণে ব্রিকস জোটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে না পাকিস্তান!
13 Sep 2026 • সারাদেশ

মো: মাহবুবুর রহমান খানঃ
প্রথমেই আলোচনায় আসা যাক ‘BRICS’ (ব্রিক্স)আসলে কি? এবং তার কাজ কি? ব্রাজিল,রাশিয়া,ইন্ডিয়া (ভারত)চায়না(চীন) এবং সাউথ আফ্রিকা ( দক্ষিণ আফ্রিকা) নামের দেশ গুলোর ইংরেজি আদ্যক্ষর নিয়ে BRICS ‘ব্রিক্স’নামের অভিষেক। সংগঠনটির কাজ হলো, বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে সাপোর্ট দেয়া। ২০০৪ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লগ্নে তারা নাম দিয়েছিল BRIC ‘ব্রিক’ এবং সদস্য দেশ ছিল ব্রাজিল,রাশিয়া,ইন্ডিয়া,চীন।পরে ২০১০ সালে সাউথ আফ্রিকা যোগ দেওয়ায় নাম হয় ‘BRICS’ব্রিক্স।
নিয়ম হচ্ছে নতুন কোন নতুন দেশকে সদস্য অন্তর্ভুক্ত হতে হলে সব সদস্যভুক্ত দেশের সর্বসম্মতি থাকতে হবে। জোটের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারতের আপত্তি বা ভেটো ক্ষমতা পাকিস্তানের সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। চীন ও রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের আবেদন ঝুলে রয়েছে। বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ এর ওপর নির্ভরতা কমাতে পাকিস্তান ব্রিক্সের সদস্য হতে এবং ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের’ সাথে যুক্ত হতে চাইছে। কিন্তু পূর্ণ সদস্য পথ ছাড়া তা সম্ভব হচ্ছে না।
উদীয়মান আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক জোট ব্রিক্সের সদস্য পদের জন্য তিন বছর আগে আবেদন করেছে পাকিস্তান। অপরদিকে জোটের দুই প্রভাবশালী সদস্য চীন ও রাশিয়া ইসলামাবাদ কে গ্রিনসিগন্যাল ও দিয়েছে শুধুমাত্র ভারতের আপত্তির কারণে এ জোটের সদস্য হতে পারছে না পাকিস্তান।
২০০৩ সালে ব্রিক্সজোটের সদস্য পদের জন্য আবেদন করেছিল পাকিস্তান সেই সাথে আবেদন করেছিল মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও।গত তিন বছরে এই চারটি দেশ প্রাথমিক সদস্য থেকে স্থায়ী সদস্যে উন্নীত হয়েছে কিন্তু পাকিস্তান এখন পর্যন্ত প্রাথমিক সদস্য পদই পায়নি।ব্রিক্স এর সদস্য পদের জন্য ৩০ টি দেশ আবেদন করেছে সেই ৩০টি দেশের তালিকায় পাকিস্তানও রয়েছে।
তীব্র অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তান মূলত জোটের সদস্যপদ চাইছে নিজেদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে। পাকিস্তানের জাতীয় অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুসারে দেশটির বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার তিন দশমিক ৭০ ভাগ। তা’ছাড়া দিনে দিনে ব্রিক্স এর গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অর্থনৈতিক জোট হয়ে উঠতে থাকাও পাকিস্তানের সদস্য পদের আবেদনের অন্যতম কারণ।
জাপান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘নিক্কেইএশিয়ার’ তথ্য অনুসারে ব্রিক্স এর সদস্য পদ না নিলেও ব্রিক্স সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) ৫৮ কোটি ডলার সমমূল্যের শেয়ার কিনেছে পাকিস্তান।
‘ব্রিক্সজোট’বর্তমানের বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ব্রিক্সজোটের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের নিজস্ব বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জোটভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি আয় ৪৮ দশমিক ৮% বেড়ে ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫.৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালুচ জানিয়েছিলেন,পাকিস্তান বৈশ্বিক দক্ষিনের এ প্রধান জোটে যোগ দিতে চায়। তিনি বলেছিলেন, ব্রিক্স এর বেশিরভাগ সদস্যের সঙ্গে পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিক্সে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছে জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমরা বিশ্বাস করি ব্রিকসে যোগ দিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো এগিয়ে নিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয়তাকে পুনর্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা এও আশা করি যে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয়তার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘ব্রিকস’পাকিস্তানের আবেদনের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।
রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহম্মদ খালিদ জামালী, রুশ সংবাদ সংস্থা তাস (Tass) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পাকিস্তানকে সদস্য পদ পেতে সমর্থন দেওয়ার জন্য সদস্য ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়ায় রয়েছে দেশটি । বিশেষ করে রাশিয়ার কাছে সমর্থন চাওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বেইজিং এবং মস্কোর সমর্থন থাকার পরও ‘ব্রিক্সে’ পাকিস্তানের যোগদান ঝুলে আছে কারণ জোটের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়মে ভারতের বিরোধীতাই দুর্ভেদ্য প্রাচীর হিসেবে কাজ করছে।
ব্রিক্স এর নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ সদস্য বা অংশীদার দেশ হিসেবে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে বর্তমান সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
তথ্যসূত্রঃ
#The Times of India
#NDTV (India)
#Manob zamin
#Campus Times.
#The daily Star
ছবি:
সংগৃহিত।
প্রতিবেদক–
সম্পাদক-প্রকাশক,
দৈনিক জনতার দেশ।
