বুধবার, 28 অক্টোবর 2026 · 02:08
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

ভুয়া মেজর ও এসপি’র ভয়ংকর ফাঁদ! সেনা সদস্যের ৩ লাখ টাকা ও চাকরি খেয়ে অবশেষে জাহাঙ্গীর গেটে ধরা!

06 Sep 2026 • সারাদেশ

ভুয়া মেজর  ও এসপি’র  ভয়ংকর ফাঁদ! সেনা সদস্যের ৩ লাখ টাকা ও চাকরি খেয়ে অবশেষে জাহাঙ্গীর গেটে ধরা!

 

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

পোশাক দেখিয়ে নয়, এবার ফেসবুক আর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ‘ভুয়া মেজর আর ভূয়া এসপি’সেজে প্রতারণার রাজ্য কায়েম করেছিল একটি চক্র। সেই ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খোয়ালেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সৈনিক। খোয়া গেল ৩ লক্ষ টাকা, খোয়া গেল চাকরিও।

অবশেষে ভুক্তভোগীর ধাওয়া আর জনতার সহায়তায় গত ০৪/০৯/২০২৬ ইং রাত ১২:১০ ঘটিকায় ঢাকা তেজগাঁও বিমানবন্দরের জাহাঙ্গীর গেট এলাকা থেকে হাতেনাতে আটক হলো চক্রের মূল হোতা ভূয়া এসপি শাহিন আলম।  পরে তাকে সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সেনা সদস্য মোঃ সাব্বির আহমেদ সৌরভের অভিযোগ, গত ২৭/১০/২০২৫ ইং তারিখে ফেসবুকে “মেজর মেহেদী” নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সেনাবাহিনীর বড় কর্মকর্তা দাবি করে তার সাথে বন্ধুত্ব করে।

আস্থা বাড়াতে “মেজর মেহেদী” সৌরভকে পরিচয় করিয়ে দেয় “এসপি শাহিন আলম” এর সাথে। এই “এসপি” সৌরভের ছোট বোনের বিয়েতে এসে ২ দিন বাসায়ও থাকে। বিশ্বাস অর্জনের পরই আসল খেলা।

“জরুরি কাজ” এর কথা বলে কৌশলে সৌরভের স্ত্রীর গহনা ও বেতনের সব টাকা মিলিয়ে ৩,০,০০০/- (তিন লাখ) টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। দেওয়ার কথা ছিল ১০ দিনের মধ্যে। গ

টাকা নেওয়ার পর সৌরভকে নিয়ে নীলফামারী যায় শাহিন। ফেরার পথে একটি থানায় ঢুকে সরাসরি ওসির চেয়ারে বসে যায় সে। নিজেকে এসপি পরিচয় দিয়ে থানার পুলিশদের শাসায় এবং সৌরভের ভগ্নিপতির জন্য তদবির করে।

তখনই সৌরভের সন্দেহ হয়। তিনি থানায় নিজের আসল পরিচয় দেন।

প্রতারণার মাসুল দিতে হল চাকরির বিনিময়ে।
পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে “মেজর মেহেদী” ও “এসপি শাহিন আলম” দুজনই ভূয়া। তাদের কারণে সৌরভের বিরুদ্ধে কোর্ট অফ ইনকোয়ারি বসে এবং তিনি সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন।

অনেক খোঁজার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর  রাতে ঢাকার জাহাঙ্গীর গেটে শাহিন আলমকে আটক করেন সৌরভ ও তার বন্ধুরা। আটকের পর তাকে ৪৬ ইনফেন্ট্রি ব্রিগেড, ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি এমপির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সে কোম্পানি কমান্ডারের হেফাজতে।

আটকৃতের আসল নাম ইত্তেকার শাহীন চৌধুরী, তার জন্মস্থান সিলেট সদর জেলার  বরলেখা থানার পাকুলিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মোঃ কামরুজ্জামান।

এই প্রতারক সম্পর্কে জানা যায়, সে বিভিন্ন জেলায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। মোবাইল ঘেঁটে বেরিয়ে আসে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে ছিল অসংখ্য প্রতারণার কল রেকর্ড, অডিও, ছবি এবং একাধিক নারী কেলেংকারির পর্নোগ্রাফি ভিডিও। জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।

ভুক্তভোগী সাব্বির আহমেদ সৌরভ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, _ওরা আমার টাকা মেরেছে, ইজ্জত মেরেছে, চাকরি খেয়েছে, আমি শুধু বিচার চাই। আমার টাকা ফেরত চাই।

ছবি: ভূয়া এসপি ও ভূয়া মেজর শাহীন আলম।

 

আরও পড়ুন

পলিমাটির চাদরে যমুনার তীরে, তিল চাষে নতুন বিপ্লব নীড়ে!

ইয়েমেনে জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকটে শহরটির হাজারো মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে!

চিকিৎসা সেবায় যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তিঃরোবোটিক সার্জারির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে জটিল সকল অপারেশন!

বাউফলে(পটুয়াখালী) ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল কার পকেটে?

ক্ষমতা আর কারাগার এই দুই মেরুর মাঝখানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবস্থান!

জনরোষে উত্থাল ফ্রান্সঃ চলমান বিক্ষোভ আন্দোলনে গ্রেপ্তার হাজার ছাড়িয়ে!