ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তারে সয়লাব সারাদেশ, ঝুঁকিতে স্বাস্থ্য সেবা!
15 Sep 2026 • স্বাস্থ্য সেবা পরিস্থিতি।

*মো: মাহবুবুর রহমান খান*
রাজধানীর অদূরে এস নজরুল নামের এক ব্যক্তি নিজেকে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী ডাক্তার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেশজুড়ে ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তারদের একটি বিস্তারিত নেটওয়ার্কের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই চক্রের মাধ্যমে সাভারের এস নজরুলও কোন স্বীকৃত মেডিকেল ডিগ্রী ছাড়াই এমবিবিএস পদবী ব্যবহার করে এলোপ্যাথিক চিকিয়া চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন।
যমুনা টিভির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সেই তথ্য।
বৈধ মেডিকেল শিক্ষা বা বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই নামের পাশে এমবিবিএস বা বিকল্প ধারার ডিগ্রী যেমন এ এম এস /সিএম ব্যবহার করেন তারা।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে নাম সর্বস্ব বা অবৈধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নামমাত্র মূল্যে বা খুব কম সময়ে এসব সাজানোর সনদ সংগ্রহ করা হয়।
কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই এই ধরনের ভুয়া চিকিৎসকরা রোগীদের প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসা দিয়ে আসছেন যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
*তার আসল পরিচয় ও ছদ্মনাম*
আর আসল নাম সাইদুর রহমান। পেশাগত নাম :এস,আর নজরুল বা ডা: নজরুল। তিনি সাভার বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নিজের মালিকানাধীন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্র্যাকটিস করেন।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং এমবিবিএস ডিগ্রির বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বেগ জনক তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি মূলত প্রিমিয়ার নামের একটি অবৈধ ও বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান থেকে টাকার বিনিময়ে ভুয়া এমবিবিএস সনদ সংগ্রহ করেছেন। এই ভুয়া সনদ চক্রের মূল হোতা এমএন হককে ২০২২ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকবাহিনী গ্রেফতার করেছিল এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে তিনি এসএসসি বা এইচএসসি পর্যায়ে কোন ক্লাসে বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়েননি। বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া মেডিকেল সায়েন্স পড়া আকাশ কুসুম কল্পনা।
BMDC ‘বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ দ্বারা চিকিৎসকের স্বীকৃতি বা বৈধ কোন রেজিস্ট্রেশন তিনি সাংবাদিকের সামনে উপস্থাপন করতে পারেননি। সংক্ষেপে বলতে গেলে তিনি কোন বৈধ মেডিকেল কলেজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেননি এবং তার অভিজ্ঞতার সকল ‘চিকিৎসা ডিগ্রী পরিচিতি’ সম্পূর্ণ ভূয়া এবং সাজানো।”যমুনা টিভির অনুসন্ধানী” প্রতিবেদনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, কোন এক অজ পাড়া গাঁয়ের শফিউদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা থেকে মানবিক বিভাগ থেকে দাখিল পাশ করেছেন তিনি। পরে মেডিকেল ডিপ্লোমা করে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সাংবাদিকরা যখন তাকে প্রশ্ন করে আপনি মানবিক বিভাগে দাখিল থেকে পাস করে কীভাবে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হয়ে আবার মেডিকেল কলেজে পড়লেন? উত্তরে তিনি জানালেন, এসএসসি পাশের পর মেডিকেলে ডিপ্লোমা নেয়ার পর তিনি তখন সায়েন্সের স্টুডেন্ট হয়ে গেলেন। ডিপ্লোমা থেকে ঢাকা উত্তরায় প্রিমিয়ার মেডিকেল সায়েন্স ইনস্টিটিউট থেকে পরে এমবিবিএস ডিগ্রী নেন।
হাস্যকর বিষয় হচ্ছে, যেখানে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী কে কাঙ্ক্ষিত নম্বর নিয়ে এসএসসি -এইচ এস সি তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ( বর্তমান যুগে ডবল জিপিএ -৫) নিয়ে প্রতিযোগিতা মূলক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তারপর কোন স্বীকৃত মেডিকেল কলেজে ডাক্তারী পড়ার জন্য চান্স পায় সেখানে মাদ্রাসা পড়ুয়া দাখিল পাশ কীভাবে এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন করলো? মজার বিষয় হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীকে এইচ এস সি পাশ করার পর ৫ বছর মেডিক্যাল সায়েন্স পড়ে তারপর ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়ে দু্বছর ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর (বিএমডিসি বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) কর্তৃক যাচাই-বাছাই শেষে লাইসেন্স প্রাপ্তির পর নামের আগে ডাক্তার পদবী লিখার যোগ্যতা অর্জন করে সেখানে নজরুলের মতো মানবিক বিভাগ থেকে দাখিল পাশ ব্যক্তি কীভাবে ৬ মাসের ডিপ্লোমা করে এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে গেলেন বিষয়টি হাস্যকর নয় কি?
জানা গেছে, টাকার বিনিময়ে প্রিমিয়ার নামক ভুয়া প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রী নিয়েছেন।
দেশের আনাচে-কানাচে এমন ১০ হাজার ভূয়াএমবিবিএস / বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।এমন অনেক ভূয়া ডাক্তারদের তথ্য “দৈনিক জনতার দেশ” এর তথ্য ভান্ডারে আছে।পর বর্তীতে ধারাবাহিক ভাবে জনস্বার্থে এগুলো প্রকাশ করা হবে।
আশ্চর্য জনক বিষয় হচ্ছে, গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে এই ভূয়া ডাক্তারদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ভুয়া ডাক্তারদের সম্মিলিত চক্র হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। হাইকোর্ট রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রায় ঘোষণা করে, এখন থেকে তারা ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবে না, তবে নামের আগে ফিজিশিয়ান শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে। তার মানে দাঁড়ালো “যেই লাউ সেই কদু”।এদের ভূয়া সনদ বাতিল হলো না উপরন্তু তাদেরকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার এখতিয়ার দেওয়া হল।তার মানে চিকিৎসা সেবার বারোটা বাজিয়ে দিল মহামান্য হাইকোর্ট।তাদের লাইসেন্স বাতিল হলো না, ভূয়া ডিগ্রি নেয়ার অপরাধে কোন বিচার হলোনা এরই নাম বাংলাদেশ! বিচার যেখানে নিবৃতে কাঁদে।
প্রতিবদক,
সম্পাদক-প্রকাশক, দৈনিক জনতার দেশ।
তথ্যসূত্র:
# যমুনা টিভির সাক্ষাৎকার
# বিভিন্ন প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত ও প্রকাশিত সংবাদ।
ছবি: সংগৃহিত।
ইনসেটে: এস আর নজরুল,ভূয়া এমবিবিএস। ♦
