“রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আমার কাছে অর্থহীন আর প্রহসনের” এটা নির্বাচন নয়, মনোনয়ন -স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা!
21 Aug 2026 • সারাদেশ

রাজনৈতিক ডেস্ক|জনতার দেশ :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রুমিন ফারহানা সহ ৬জন ভোট দান থেকে বিরত ছিলেন।
এই ছয়জন সংসদ সদস্যরা হলেন– রুমিন ফারহানা, মির্জা আব্বাস,ড.ওসমান ফারুক, মোস্তফা কামাল পাশা আবুল হাসান এ গাজী নজরুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া -২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সহ এই ৬ জন ভোট দেননি বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে মির্জা আব্বাস, বিদেশে চিকিৎসাধীন আছে আর বিএনপির আরেক সদস্য মুস্তাফা কামাল পাশা চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন। বিএনপির সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক ও খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান ও ভোট দিতে আসেননি। ওসমান ফারুক দেশে নেই। আর আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করছে বলে তার দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি।
আদালতের আদেশের কারণে চট্টগ্রাম -৬ আসনের ফল প্রকাশ স্হগিত রয়েছে।একই সঙ্গে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।ফলে বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারী সহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। উপর উল্লেখিত ৬ জন ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন।
ভোট দানে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা প্রথম আলো কে জানিয়েছেন, এই নির্বাচন অর্থহীন এবং প্রহসনের।ভোট না দেওয়ার পক্ষে তিনি তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যম “প্রথম আলো” কে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোন নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব? সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।
ভোট না দেওয়ার দ্বিতীয় কারণ ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, এত বড় একটি গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেল যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না?
তৃতীয় কারণ কে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের সত্তর অনুচ্ছেদের ভয় দেখালো। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০ এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে।এখন তারা বলছে দলের বাইরে ভোট দিলে তার সদস্য পদ বাতিল হবে। এরকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কিংবা ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে। এছাড়া নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলেও তার সংসদ সদস্য পথ থাকবে না। তবে একবার শূন্য হওয়ার পর পরবর্তী সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আবার অংশ নিতে কোন বাধা নেই।
ভোট চলাকালীন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়,দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোট দানে বিরত থাকবেন।কারণ হিসেবে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়,রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় এই নির্বাচনে ভোট দেবে না ইসলামী আন্দোলন। তবে পরে ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র:
# প্রথম আলো
#যুগান্তর
# ইত্তেফাক
# ইনকিলাব
# ভয়েস বাংলা
# বিডিনিউজ.২৪ ডটকম
# Bangla Tribune
ছবি: সংগৃহিত।
