হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজপার্টির দৌরাত্ম্য!
29 Aug 2026 • সারাদেশ

ক্রাইম ডেস্ক| জনতার দেশঃ
হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘লাগেজ পার্টি বা লাগেজ চোর সিন্ডিকেট’ প্রধানত তিনটি ধাপে এবং আলাদা আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে।
লাগেজ পার্টির শ্রেণীবিভাগ ও কাজের ধরনঃ
বিমানবন্দরে এই অপরাধ চক্রটিকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছ—
১. ভিতরের কাটা পার্টি বা ইনসাইড লোডার :
এরা বিমানের কার্গো হোল্ড বা পণ্য রাখার জায়গা ট্রলি বা লাগেজ বেল্ট এর পেছনে কাজ করে।
কোন বিমান অবতরণের পর মালামাল খালাসের সময় এরা সিসিটিভির নজরদারির বাইরে থাকা (ব্লাইন্ড স্পট) ব্যবহার করে সুঁই, চাবির রিং বা দাঁড়ালো স্ক্রু-ডায়ভার দিয়ে ব্যাগের চেইন খুলে ফেলে। সেখান থেকে তারা খুব দ্রুত সোনা, মোবাইল, দামি ঘড়ি, ক্যাশ বা কসমেটিক ছিনিয়ে নিয়ে আবার চেনটি টেনে আগের মত আটকে দেয়।
২.বাহিরের বা টানা পার্টি (ক্যানপি ও বেল্ট চুর)
এরা মূলত বহিরাগত অপরাধী। অনেক সময় কাস্টমসের গ্রীন চ্যানেল পার হওয়ার পর বা (২ নম্বর ক্যানপি (যাত্রীদের বিদায়) ও
অভ্যর্থনক এলাকায় প্রবাসী যাত্রীদের ভীড় বা অন্যমনস্কতার সুযোগ নেয়। আত্মীয় সেজে পাশে দাঁড়িয়ে সুযোগ বুঝে পুরো হ্যান্ড ব্যাগ বা ছোট ট্রলি নিয়ে চম্পট দেয়।
৩. প্রতারক চক্র (সোয়াপিং ও এক্সচেঞ্জ পার্টি)
এরা বিমানবন্দরের ভেতরে বা ঠিক বাইরে প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের টার্গেট করে। ডলার ভাঙ্গিয়ে দেওয়া কম ভাড়ায় গাড়ি ঠিক করে দেওয়া বা আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করার নাটক সাজিয়ে যাত্রীদের পাসপোর্ট, টাকা লাগেজ নিয়ে পালিয়ে যায়।
বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা সংস্থা এবং এ পি বিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন)এর বিভিন্ন সময়ের অভিযানে দেখা গেছে যে লাগেজ পার্টিরন দৌরাত্ম বেশ গভীরে।
লাগেজ বহনের দায়িত্বে থাকা থার্ড পার্টি (দৈনিক ভিত্তিক লোডার) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কিছু অসাধু নিরাপত্তা রক্ষী এর সাথে জড়িত থাকে। বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে বাইরের চোরদের প্রবেশ এবং মূল্যবান সামগ্রী বাইরে পাচারের ক্ষেত্রে কিছু অসাধু নিরাপত্তা কর্মীর সাহায্য বা নজরদারির গাফিলতি ধরা পড়েছে।
অনেক সময় শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ কাটার অভিযোগ ওঠলেও তদন্তে দেখা গেছে ঘটনাটি আসার আগেই ঘটেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকা যেমন আদ্দিস আবাবা বিমানবন্দর হয়ে আসা কানেক্টিং বা ট্রানজিট নাইটের সময় যাত্রীদের অজান্তেই সেখানে লাগেজের মূল্যবান জিনিস চুরি করা হয় এবং যাত্রীরা ঢাকায় নেমে ব্যাগ ভাঙ্গা দেখতে পান।
লাগেজ চুরির এই অপবাদ ঘোচাতে সিভিল এভিয়েশন ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
লাগেজের মালামাল খালাসকারী লোডারদের জন্য সম্পূর্ণ পকেট ছাড়া ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যেন তারা কোন জিনিস লুকিয়ে পকেটে নিতে না পারে।
লাগেজ ব্যান্ড এবং কার্গো এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে এবং ২৪ ঘন্টা এভিয়েশন সিকিউরিটি ও গোয়েন্দা নজর দারি চালু হয়েছে।
বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেট এবং এপিবিএন যৌথভাবে ক্যানপি ও ট্রলি ব্যাল্ট এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালায় বলে এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে।
হাতেনাতে ধরা পড়লে চোরদের তাৎক্ষণিক এক বছর সংশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড এবং কার্গো হ্যান্ডলিং আন্তর্জাতিক মানের করার জন্য জাপানি নির্মাণ সংস্থা ” জাপান কনসোর্টিয়াম ” কে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে যা এই অব্যবস্থাপনা পুরোপুরি দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্য সূত্র:
# সিভিল এভিয়েশন,শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
# আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
#বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ।
