ক্রাইম ডেস্ক:
প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ রাজনৈতিক সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিতি পান। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে আত্মসাৎ করেন ।
১. খালের খাসজমি দখল ও লিজ:
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার রামচন্দ্রপুর মৌজায় অবস্থিত ১১০ শতাংশ খাসজমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্তের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন । সরকারি সিএস ও আরএস রেকর্ডে জমিটি স্পষ্টাক্ষরে ‘খাল’ হিসেবে শ্রেণিকরণ থাকা সত্ত্বেও, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন বহির্ভূতভাবে এটিকে ‘নাল জমি’ বা ‘ভিটি’ দেখিয়ে বন্যার সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘সুরের ধারা’-র নামে ৯৯ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি লিজ বাগিয়ে নেন ।
২. বহুতল ভবনের বিশেষ অনুমতি:
রাজউকের (RAJUK) সাধারণ নগর পরিকল্পনা এবং জলাশয় রক্ষা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে, খালের পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের বিশেষ অনুমোদন ও ছাড়পত্র আদায় করে নেওয়া হয়।
৩. রাষ্ট্রীয় ভিভিআইপিদের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা:
এই বিতর্কিত জমিতে ‘সুরের ধারা’র ভবন নির্মাণ ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সরাসরি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ মেলে। উক্ত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রকল্পটিকে আইনি রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
৪. পুরস্কার ও দলীয় তোষামোদি:
আওয়ামী লীগ সরকারের অন্ধ তোষামোদি ও চাটুকারিতার পুরস্কারস্বরূপ ২০১৬ সালে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ দেওয়া হয়।
এদের দাপটে আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতারা শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছাতেও পারতেন না অথচ আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী বা দলের জন্যে তাদের এক পয়সার অবদান নাই ۔ চেটে খাওয়া ছাড়া l তিনি কোনোদিন আওয়ামীলীগ অথবা মুক্তি যোদ্ধাদের পক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি।
তথ্য ঋণ:
# সিডনি,অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মামুন রশিদ এর পেজ বুক আইডি থেকে সংগৃহিত।
