বুধবার, 28 অক্টোবর 2026 · 22:28
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

উখিয়া ক্যাম্পে মার্কিন বিশেষ দূত: প্রত্যাবাসনের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ ও অবস্থান।

মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার): মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তাঁর এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে নাগরিক অধিকারসহ ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন’ নিশ্চিতের দাবিতে প্ল্যাকার্ড […]

মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার):

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তাঁর এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে নাগরিক অধিকারসহ ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন’ নিশ্চিতের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়েছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা।

৩১ জুলাই শুক্রবার দুপুরে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছায়। প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করে।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই ৪ নম্বর ও সংলগ্ন ৮ ওয়েস্ট (৮ডব্লিউ) ক্যাম্পে শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থী রাস্তার দুই পাশে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেন। তাদের হাতে ছিল নিজেদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আকুল আবেদন সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। প্ল্যাকার্ডগুলোতে ইংরেজিতে লেখা ছিল: “You Have Your Home! We Miss Our Home!” (তোমাদের নিজস্ব বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করছি), “No More Refugee Life, Returning Is Our Right” (আর শরণার্থী জীবন নয়, নিজ দেশে ফেরাই আমাদের অধিকার) এবং “Enough is Enough” (আর নয় কষ্ট)।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ৪ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. জোবায়ের বলেন, “আমরা এখানে যুগের পর যুগ শরণার্থীর মতো আশ্রিত হয়ে থাকতে চাই না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় কর্মকর্তারা যখন ক্যাম্পে আসেন, তখন আমাদের মনে আশার আলো জাগে। আমরা তাদের স্পষ্ট জানাতে চাই- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কেবল ত্রাণ দেওয়া নয়, বরং আমাদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে নিজ দেশ মায়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।”