♦ক্রাইম ডেস্ক|জনতার দেশ:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে চাকরি, বদলি ও পদোন্নতির নামে অভিযোগে অভিযুক্ত হরিদাস চন্দ্র তরোনী দাস ওরফে তৌহিদুল ইসলাম কে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত-বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার ১২ জুলাই রাতে সিআইডির একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা পরিচয় জালিয়াতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার বাসিন্দা হরিদাস সনাতন ধর্মের একজন ডোম পরিবারের সদস্য।এক সময় তিনি রাজধানীর উত্তরায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন। পাশাপাশি পুরনো এসি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হাসিনা সরকারের আমলে তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে হরিদাস বিভিন্ন ব্যক্তিকে সরকারি চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তাছাড়া পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে বর্তমানে আলোচনায় ওঠে এসেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে তিনি এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে Rab তাকে ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল। সে সময়ে জানা গেছে, হরিদাস শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার নামে নগদ প্রায় চার কোটি টাকা সহ উল্লেখযোগ্য সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।
Rab এর আগের তদন্তে ওঠে আসে হরিদাস ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে ভারতে চলে যান। সেখান থেকে এতিম সনদ সংগ্রহ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং ইলেক্ট্রনিকস বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন।২০১০ সালে দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদে ইসলাম নাম গ্রহণ করেন এবং সুমি ইসলাম নামে এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করেন। এরপর শ্বশুরের পরিচয়ের মাধ্যমে ময়মনসিংহ এর ফুলবাড়িয়া এলাকায় জমি কিনে নিজেকে বিত্তশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত দিতে শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মহলে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলা গুলোর পাশাপাশি নতুন অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
*তথ্যসূত্র*
# বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদ।
তথ্যঋণ:
# দৈনিক মুক্ত সময়।
ছবি: সংগৃহিত।
