বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026 · 01:18
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

বাউফলে জামায়াত নেতার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ, কুপিয়ে জখম ২, আহত ৭

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াত নেতার নেতৃত্বে হামলা ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।  এ ঘটনায় দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমসহ সাতজন আহত হয়েছেন।  সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব (এক নম্বর ওয়ার্ড) বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন শাহিন রাড়ি, মাঈনুদ্দিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও […]

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াত নেতার নেতৃত্বে হামলা ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। 
এ ঘটনায় দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমসহ সাতজন আহত হয়েছেন। 

সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব (এক নম্বর ওয়ার্ড) বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন শাহিন রাড়ি, মাঈনুদ্দিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগম। তাঁদের মধ্যে শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহতদের অভিযোগ, জামায়াতের ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল শরিফের নেতৃত্বে সোহাগ, সাকিব হাওলাদার, আলামিন চৌকিদার ও আরিকুল চৌকিদারসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। অন্যরা তাঁদের উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়।

আহত ব্যবসায়ী শাহিন রাড়ির অভিযোগ, হামলার সময় তাঁর কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন হামলাকারীরা। তিনি বলেন, জমি বিক্রি করে কলাইয়া বাজার থেকে ফেরার পথে তাঁর কাছে ওই টাকা ছিল।

হামলার কারণ সম্পর্কে আহত মাঈনুদ্দিন বলেন, তাঁদের বসতির উত্তর পাশে লালচরে স্থানীয় কৃষকদের মহিষ ঘাস খেতে গেলে মমিনপুর এলাকার জেলেদের বাঁশের তৈরি মাছ ধরার চাই নষ্ট হয়ে যায়। পরে কৃষকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের জন্য কিছু টাকা তুলে জেলেদের দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগ ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল শরিফ ক্ষিপ্ত হন। এর জের ধরেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় পলি বেগম অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের কয়েকজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার পতনের পর তাঁরা জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় মাদক কারবারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা সিমা বেগম বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। শাহিন রাড়ি বিএনপির রাজনীতি করায় তাঁকে লক্ষ্য করেই পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত সাইফুল শরিফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আইনানুগ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।