কেন্দুয়া থেকে মনিরুল ইসলাম আকন্দ সোহেল :
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সরকারি হালটের প্রায় ১ শতক গ্রামীণ রাস্তা দখলমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা রাস্তা উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
২০ জুলাই সোমবার সকাল ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, মাসকা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, কানুনগো, সার্ভেয়ার, নাজির, স্থানীয় গ্রামবাসী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান চলাকালে সরকারি হালটের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য রাস্তা উন্মুক্ত করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালটের একটি অংশ দখল করে রাখায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে রাস্তা দখলমুক্ত হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে সরকারি রাস্তা পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির দাবি জানান।
জানা যায়, গত ২৮ জুন রায়পুর গ্রামের পক্ষে শরিফ হাসান ভূঁইয়া রায়পুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৬৬৯ নম্বর দাগে অবস্থিত সরকারি হালট পরিমাপের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন। পরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের পরিমাপ ও তদন্তে সরকারি হালটের একটি অংশ অবৈধভাবে দখল করে রাখার সত্যতা পাওয়া যায়।
এদিকে, ৩০ জুন রায়পুর জিপিএস থেকে সুচিয়া বিল পর্যন্ত রাস্তা কর্তনের অভিযোগ এনে তাইনুস শাহীসহ কয়েকজন পৃথক একটি আবেদন করেন। তদন্তে জানা যায়, স্থানীয় গ্রামবাসী নিজেদের চলাচলের সুবিধার্থে সরকারি হালটের ওপরের অংশের মাটি সরিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছিলেন। এ সময় তাইনুস শাহীর স্থাপনার কিছু অংশ সরকারি হালটের মধ্যে পড়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সরেজমিন তদন্ত, পরিমাপ ও দখল চিহ্নিত করার পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রায় এক শতক সরকারি রাস্তা উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত ও সঠিক পরিমাপের মাধ্যমে সরকারি হালটের অবৈধ দখল চিহ্নিত করে আইনানুগভাবে তা উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
