বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026 · 00:19
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

১১ নারীকে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার বাংলার সিরিয়াল কিলার রসুখাঁর বিচার কাজ ফাইল বন্দি।মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত এই আসামী দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে কীভাবে এখনো কারাগারে তার ফাঁসির রায় বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা কেন? সরকারের কাছে বিবেক বান জাতির একটাই প্রশ্ন।

মাহবুবুর রহমান খান: ১১ নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় প্রখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসুখাঁ গ্রেপ্তারের দেড় যুগ পরও বিচার বিহীন অবস্হায় কীভাবে বেঁচে আছেন এমন এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘ সূত্রিতা নিয়ে। সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে ০৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তার কে ধর্ষণের পর যখন দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে […]

মাহবুবুর রহমান খান:
১১ নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় প্রখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসুখাঁ গ্রেপ্তারের দেড় যুগ পরও বিচার বিহীন অবস্হায় কীভাবে বেঁচে আছেন এমন এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘ সূত্রিতা নিয়ে।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে ০৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তার কে ধর্ষণের পর যখন দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে তখন অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও সাজা কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
মামলার তদন্তের দেরি, আপিলের বেড়াজালে বছরের পর বছর আটকে থাকছে চাঞ্চল্যকর সব মামলার সাজা।গত বছর ঘটে যাওয়া ৮ বছর বয়সী শিশু আছিয়া আকতারের ধর্ষণ- খুন মামলার ফাঁসির রায় কার্যকর হলেও এখনো আপিলি জটিলতায় ঝুলে আছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার ১১ খুন ও ধর্ষণ মামলার আসামী রসুখাঁর মামলা। রসুকা গ্রেপ্তারের ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও তার চূড়ান্ত শাস্তি এখনো কার্যকর করা হয়নি। চাঁদপুর সদরের মদনা গ্রামের বাসিন্দা রসু খাঁ শুরুতে ছিলেন একজন ছিচকে চুর।২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর টঙ্গী থেকে একটি মসজিদের ফ্যান চুরির মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেরিয়ে আসে এক গা শিউরে ওঠা এক অধ্যায়। রসুখাঁ নিজেই স্বীকার করেন তিনি একে একে ১১ নারীকে ধর্ষণ ও খুন করেছেন। তার লক্ষ্য ছিল ১০১ টি হত্যাকাণ্ড ঘটানো।
এক পোশাক শ্রমিকের সঙ্গে প্রেম করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর নারীদের প্রতি তার তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধ তৈরি হয় তার মনে। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন ১০১ জন নারীকে ধর্হষণ ও হত্যা করে মাজারে গিয়ে তওবা করবেন। সবাইকে প্রেমের অভিনয় ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতেন রসু। ২০০৭ সালের শুরুতে নিজের শ্যালকের স্ত্রী রিনা বেগমকে হত্যার মধ্য দিয়ে তার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু হয়।
রসুখাঁর লালসার শিকার হওয়া নারীদের প্রায় সবাই ছিলেন ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি পোশাক শ্রমিক। এদের মধ্যে ফরিদগঞ্জে ৬ জন চাঁদপুর সদরের ০৪ জন,এবং হাইমচরে ০১ জনকে ধর্ষণ পরবর্তী নির্মমভাবে হত্যা করেন তিনি।
শিকার হওয়া নারীদের বেশির ভাগেরই সঠিক পরিচয় না পাওয়ায় পরবর্তীতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। তার বিরুদ্ধে দাযের করা হয়েছিল ১০ টি মামলা। যার মধ্যে ০৯ টি হত্যা এবং ০১টি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা।
২০০৯ সালের ২০ জুলাই রাতে ফরিদগঞ্জের হাসা খালের পাশে পারভিন নামে এক পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণের পর শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন রসুখাঁ এবং তার সহযোগীরা। এই মামলায় ২০১৮ সালে ৬ মার্চ কুমিল্লার আদালত রসুখা সহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে হাইকোর্ট রসুখাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে হাইকোর্টের রায়ের পরও আজ পর্যন্ত তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে থাকা বাকি মামলা গুলোর অগ্রগতি ও নামমাত্র।তার পেছনে কোন অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে তা এখনো রহস্যময়।
৫২ বছর বয়সী রসুখাঁ বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে (ফাঁসির সেল) বন্দী আছেন। কিছুদিন আগে তাকে কুমিল্লার কারাগার থেকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।
জানা গেছে রসুখাঁ বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাকে প্রতিদিন খাবারই খেতে দেওয়া হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই দীর্ঘ ১৮ বছরে তার কোন আত্মীয় -স্বজন তাকে কারাগারে দেখতে আসেননি। দেশের মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন এমন জঘন্য অপরাধের অকাট্য প্রমাণ এবং আদালতের রায়ের পরেও রসুখাঁর মত জঘন্য সিরিয়াল কিলারদের কেন ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়নি? ২০০৯ সালে তা ফাঁ’সির আদেশ হয় কিন্ত এখন ২০২৬ সাল চলে রায় হওয়া থেকে ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এর মৃ’ত্যুদণ্ড কার্যকর হয় নাই। ১৭ বছর ধরে জেলে বসে রিলাক্সে জনগনের ট্যাক্সের টাকায় ফ্রিতে খাওয়া দাওয়া, চিকিৎসা পাচ্ছে। কাদের টাকা এগুলা? ওই ১১ জন ভিক্টিমের পরিবারের ট্যাক্সের টাকাও তো এখানে ব্যয় হচ্ছে। এদেশের আইনব্যবস্থা এত জঘন্য যে, ব্যাক্তি আমাদের মা বোন, মেয়েকে রে’প করবে তাকে আবার আপনার আমার কর এর টাকা দিয়ে জেলখানায় জামাই আদরে রাখতে হবে। সে জেলে বসে খাবে, ঘুমাবে আর পাশের কয়েদিদের রসিয়ে রসিয়ে আপনার মা বোনের উপর হওয়া অত্যাচারের বর্ণনা দিবে আর সেসব কয়েদিরাও কল্পনায় আপনার -আমার মা বোনকে আরেকবার ধর্ষণ করবে। রাস্ট্র ট্যাক্স নিবে অথচ ন্যায়বিচার দিতে পারবে না। গতবছরের আফিয়া নামের মেয়েটা যে মা’রা গেলো,সে ন্যায়বিচার পায়নি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার কোন পথে গিয়ে দাড়ায় জাতি সেটা দেখার অপেক্ষায়।
আদালতে বিচার কার্যকর হতে হতে যুগের পর যুগ চলে যায়,একটা সময় সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে ধর্ষক খালাস পেয়ে যায়,ধর্ষিতার পরিবার ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়।এই ক্ষোভ থেকে জনরোষ তৈরি হয়,আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে খুনের বদলা নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে বিচার না পাওয়া পরিবার বর্গ।।গতকাল ২২ মে এমনি এক ঘটনা ঘটেছে খুলনা আদালত চত্বরে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে,এক ধর্ষক কে খুলনা আদালত চত্বরে আনার সময় ভীড়ের মধ্যে কে বা কারা
ধর্ষক কে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এতে ঘটনা স্হলে ধর্ষণ মামলার এক আসামী সহ আরো দু্জন গুলি বিদ্ধ হয়ে আদালত চত্বরেই মারা যায়।
ম্যাসেজ হলো;ধর্ষণ -খুনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।জনগণই সেই রায় বাস্তবায়ন করেছে।আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া চরম অপরাধ জেনেও তারা এই কাজটি করেছে।
অপরাধ শাস্তি দ্রুততম সময়ে কার্যকর না হলে বিক্ষুব্ধ জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অপরাধের বিস্তৃতি ঘটাবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
খুলনা আদালত চত্বরে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি জাতির জন্য একটি খশনি সংকেত।
তথ্য সূত্র:
# ভয়েজ বাংলা
# News24.com
# দৈনিক প্রথম আলো
#দৈনিক ইত্তেফাক
# দৈনিক যুগান্তর
# দৈনিক কালের কন্ঠ
# দৈনিক দেশ রূপান্তর
ছবি: উইকিপিডিয়া।