বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026 · 00:16
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করুন, নয়তো আমাদের বিষ খাইয়ে মেরে ফেলুন” জেলেদের বুকফাটা আর্তনাদ ও হুঁশিয়ারি।

  ফোরকানুল ইসলাম,  কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা সংবাদদাতা :  “প্রতিদিন না খেয়ে মরার চেয়ে একদিনে মরে যাওয়াই ভালো। যদি অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করতে না পারেন, তাহলে আমাদের উপকূলের হাজার হাজার জেলেকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলুন।”–বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং বোট, বটম ট্রলিং এবং নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের প্রতিবাদে এভাবেই নিজেদের চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন […]

 

ফোরকানুল ইসলাম,  কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা সংবাদদাতা :  “প্রতিদিন না খেয়ে মরার চেয়ে একদিনে মরে যাওয়াই ভালো। যদি অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করতে না পারেন, তাহলে আমাদের উপকূলের হাজার হাজার জেলেকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলুন।”–বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং বোট, বটম ট্রলিং এবং নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের প্রতিবাদে এভাবেই নিজেদের চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কলাপাড়া উপকূলের সাধারণ জেলেরা।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টায় মহিপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কলাপাড়া ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মৃধা ও সাধারণ জেলে কামাল মাঝি সংবাদ সাধারণ জেলেদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য এই হুঁশিয়ারি দেন।
লিখিত বক্তব্যে জেলেরা অভিযোগ করেন, কুয়াকাটা, মহিপুর, আলিপুর ও আশাখালী উপকূলসংলগ্ন অগভীর বঙ্গোপসাগরে দিন দিন বাড়ছে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন অবৈধ ট্রলিং বোটের সংখ্যা। এসব বোটে ব্যবহার করা হচ্ছে, ফিশ ফাইন্ডার, জিপিএস (GPS), রাডার, ইকো সাউন্ডার ও উইঞ্চ মেশিন। এসব আধুনিক প্রযুক্তি ও নিষিদ্ধ বটম ট্রলিংয়ের মাধ্যমে সাগরের তলদেশ ছেঁকে কোটি কোটি মাছের পোনা, ডিমওয়ালা মা মাছ, চিংড়ির রেণু এবং কাঁকড়ার বাচ্চা নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে। ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাধারণ কাঠের ট্রলারকে অবৈধ ট্রলিং বোটে রূপান্তর করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।
জেলেদের অভিযোগ, সরকার সামুদ্রিক মাছের প্রজনন রক্ষায় ৫৮ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দেয়, এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে তার পুরো সুফলই ভেস্তে যাচ্ছে। বছরের পর বছর মানববন্ধন, স্মারকলিপি আর প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলেরা আরো বলেন, মৎস্য বিভাগ ও নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন ‘কাঠের চশমা’ পরে আছেন। চোখের সামনে এমন অবৈধ শিকার চললেও রহস্যজনক কারনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী জেলে কামাল মাঝি বলেন, ‘আমরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরে যাই, কিন্তু মাছ পাই না। প্রশাসন চাইলে একদিনেই অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করতে পারে। তাহলে কেন হচ্ছে না? ছোট মাছ বড় হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।’
মাছের তীব্র সংকটের কারণে উপকূলীয় জেলেদের জীবন এখন বিপন্ন। সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে জেলেপাড়ার দুর্দশার চিত্র–পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় জেলেরা এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। এখন কিস্তি দেওয়াই অসম্ভব হয়ে পড়েছে, জীবিকার তাগিদে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাড়ি জমাচ্ছেন, এছাড়া উপকূলের হাজারো জেলে পরিবারে খাদ্য, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো এখন এক বড় অনটন।
জেলেরা মনে করিয়ে দেন, দেশের প্রাণিজ আমিষের সিংহভাগ আসে সামুদ্রিক মাছ থেকে। এই অবৈধ শিকার বন্ধ না হলে শুধু জেলেদের পেটেই লাথি পড়বে না, বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে দেশের ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মৎস্যসম্পদ ও জেলেদের বাঁচাতে অবিলম্বে ৫টি জরুরি দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো–অবৈধ ট্রলিং বোট অবিলম্বে জব্দ ও ধ্বংস করতে হবে, অগভীর সমুদ্রে ‘বটম ট্রলিং’ কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে, বেহুন্দি ও অন্যান্য নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত কঠোর অভিযান চালাতে হবে, ট্রলিং সিন্ডিকেটের মূল অর্থদাতা ও প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, সাধারণ জেলেদের জন্য সাগরে নিরাপদ ও বৈষম্যহীন মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রলার মালিক ও জেলে প্রতিনিধি হারুন খান, আল-আমিন কাডারু, নুরুল ইসলাম, সিদ্দিক ফকির, রুবেল বয়াতি, কামাল কাডারু, সেলিম আকনসহ অর্ধশতাধিক সাধারণ জেলে ও ট্রলার মালিক উপস্থিত ছিলেন।
এ বিসয় কলাপাড়া উপজেলা উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মহসিন বলেন, ইতোমধ্যে চিঠিও হয়েছে,আমরা উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্নয় জরুরী সভা করে ট্রলিংএর বিরুদ্ধে জরুরী আইনি ব্যবস্হা নিতেছি।
###
তাং০৫-০৭-২০২৬।
মোবা ০১৭১৮-০৩৫৩৯১।