বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026 · 02:59
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

অভিবাসী নিরাপত্তার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকান প্রেসিডেন্টের ঘানা সফর বাতিল।

কুটনৈতিক প্রতিবেদক : দক্ষিণ  আফ্রিকায় অভিবাসীদের ওপর চলমান দমন-পীড়ন এবং তাদের গণহারে বহিষ্কারের ঘটনার প্রতিবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসার নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করেছে ঘানা সরকার। আফ্রিকার দুই প্রভাবশালী দেশের মধ্যকার এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা মহাদেশীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ​মূল ঘটনাপ্রবাহ ​ঘানা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত ঘানাইয়ান নাগরিকদের জানমালের […]

কুটনৈতিক প্রতিবেদক :

দক্ষিণ  আফ্রিকায় অভিবাসীদের ওপর চলমান দমন-পীড়ন এবং তাদের গণহারে বহিষ্কারের ঘটনার প্রতিবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসার নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করেছে ঘানা সরকার। আফ্রিকার দুই প্রভাবশালী দেশের মধ্যকার এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা মহাদেশীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
​মূল ঘটনাপ্রবাহ
​ঘানা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত ঘানাইয়ান নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট রামাপোসাকে ঘানায় স্বাগত জানানো হবে না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলা অভিযানে ঘানার নাগরিকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই কঠোর এই পদক্ষেপ নিয়েছে আক্রা।
​ঘানা সরকারের কঠোর বার্তা
​ঘানার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে:
​”আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদাকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখা হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের নাগরিকদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনা বন্ধ না হচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো সফর বা উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ফলপ্রসূ নয়।”
​কেন এই সিদ্ধান্ত?
​মানবাধিকার লঙ্ঘন: দক্ষিণ আফ্রিকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চলা হামলা এবং অমানবিক উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে ঘানা।
​নাগরিকদের সুরক্ষা: ঘানা সরকার তার নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নয়। তাদের অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রশাসন এই সংকটে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
​কূটনৈতিক চাপ: এই সিদ্ধান্তটি আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার প্রশ্নে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
​আঞ্চলিক প্রভাব
​আফ্রিকান ইউনিয়নের (AU) নীতিমালা অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অবাধ চলাচল এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় থাকার কথা থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসী-বিরোধী সেন্টিমেন্ট বা ‘জেনোফোবিয়া’ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘানার এই সাহসী পদক্ষেপ মহাদেশটির অন্যান্য দেশকে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
​আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ঘানার এই কঠোর অবস্থান দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে অভিবাসন নীতির আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীতাকে সামনে নিয়ে এল।