বুধবার, 28 অক্টোবর 2026 · 23:10
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে ৯৩% মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবি।

  মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি: পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটাভিত্তিক ব্যবস্থা বাতিল করে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। সংগঠনটির দাবি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ […]

 

মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:

পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটাভিত্তিক ব্যবস্থা বাতিল করে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। সংগঠনটির দাবি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়েছে যে জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এ নির্দিষ্ট শতকরা কোটার কোনো বিধান নেই; সেখানে কেবল সমযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই বিদ্যমান বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তারা ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছে, অন্যথায় পাহাড়জুড়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা ৩০ মিনিটে রাঙ্গামাটি শহরের বনরূপাস্থ আয়োজন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের নেতারা বলেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগসমূহে দীর্ঘদিন ধরে ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে মেধাবী চাকরিপ্রত্যাশীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থা সংবিধানের সমতা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং পাহাড়ের হাজারো চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা দেশের সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হলেও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো সেই নীতির বাস্তবায়ন করেনি।

সংগঠনের নেতারা জানান, ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পুনরায় বৈষম্যমূলক কোটা অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হলে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট স্মারকলিপি প্রদান, আন্দোলন ও হরতাল কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলনের মুখে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় এবং কোটা বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা জানতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত জেলা পরিষদগুলোকে অবহিত করে। ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এ নির্দিষ্ট শতকরা কোটার কোনো বিধান নেই; কেবল সমযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্রাধিকার কখনোই মেধাকে অতিক্রম করতে পারবে না এবং জাতীয় প্রজ্ঞাপনের আলোকে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, সরকারের এই আইনগত ব্যাখ্যায় এতদিনের ৬৭:৩৩ কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার কোনো আইনি ভিত্তি নেই—এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ফলে আর কোনো অজুহাত বা বিলম্ব না করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় স্থগিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটায় নিয়োগ নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, উপজেলাভিত্তিক কোটার স্পষ্ট বিন্যাস প্রকাশ এবং নিয়োগের শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর, নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা প্রকাশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জনি, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বী, মো. ইব্রাহিম রুবেল, মো. রুবেল হোসেন, মো. আশরাফ আলী, মো. নাসিমার গণি, সদস্য মো. হাবিবউল্লাহ, মো. আরিফুল হক, মুন্নি আক্তার এবং জান্নাতুল ফেরদৌস।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে নেতারা বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার পরও যদি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে টালবাহানা বা কালক্ষেপণ করে, তবে পাহাড়ের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে তারা গণমাধ্যমের প্রতি বৈষম্যমুক্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানান।