ঘনঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে অতিষ্ঠ মানুষের জনজীবন।
মোঃ শাহ্ আলম সরকার স্টাফ রিপোর্টার।
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় বেড়েছে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের মাত্রা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। কালিয়াকৈর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হইতেছে।পোষাক কারখানা ছুটি হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নানা পেশাজীবী মানুষের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক খেটে খাওয়া মানুষের অভিযোগ করেছেন, আবার ছাত্র ছাত্রীরা বলেন পড়তে বসলে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে,কখনো এক ঘণ্টা, কখনো তিন ঘণ্টা পর আবার ফিরে আসছে। এতে প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটছে এবং মানসিক চাপও বাড়ছে।
অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা ঠিকমতো চার্জ দিতে না পারায় আয় হারাচ্ছেন,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সী পেশাজীবীরাও কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন,
ছাত্র রাসেল জানায় পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব পড়বে।
অটোরিকশা চালক আলামিন বলেন, আগে একবার চার্জ দিয়ে সারাদিন গাড়ি চালানো যেত। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো চার্জ হয় না, আয় ইনকাম ও অনেক কমে গেছে।
ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি মো.জাকির জানান সকালে কাজ শুরু করতেই বিদ্যুৎ চলে যায়। সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।স্থানীয়দের মতে, গরম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিভিন্ন জেলার ১০টি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং বাড়ছে।
অন্যদিকে কালিয়াকৈর উপজেলায় আওতায় প্রতিদিন প্রায় ২৪.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে এবং বর্তমানে সেই পরিমাণ বিদ্যুৎই সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীদের সরকারের নিকট আকুল দাবি জানিয়েছেন অন্তত সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত যেন বিদ্যুৎ থাকে।
