ডেস্ক রিপোর্ট | জনতার দেশ :
ঘণ ঘণ লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রায়পুরার শিল্পাঞ্চল বলে খ্যাত আমিরগঞ্জ এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন রাত প্রতি ১৫/২০ মিনিট পরপর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে চরম দুর্ভোর্গে পড়েছেন, আমিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা।আমিরগঞ্জ ইউনিয়নস্হ হাসনাবাদ একটি তাঁত সমৃদ্ধ এলাকা।এই হাসনাবাদ বাজার কে ঘিরে এখানে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য টেক্সটাইল মিল,ওয়ার্কশপ,পাওয়ার লুম সহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানা। স্কুল- কলেজ,মাদ্রাসা, ব্যাংক সহ গোটা বিশেক এনজিও প্রতিষ্ঠান।বিদ্যুত লোড শেডিংয়ের কারণে কলকারখানার উৎপাদন যেমন বন্ধ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ব্যাহত হচ্ছে। স্হানীয় এলাকাবাসী, কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক -কর্তৃপক্ষের অভিযোগ আমিরগঞ্জের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় দফায় দফায় আধা ঘন্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে, বাজারে বিদ্যুত আছে তো গ্রামে নেই,গ্রামে আছে তো বাজারে নেই।১৫/২০ মিনিট বড় জোর আধা ঘন্টা পর পর এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। এতে ব্যাবসা বাণিজ্য ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় শিক্ষার্থী,পরীক্ষার্থী,মিলকারখানার শ্রমিক সহ এলাকায় বসবাস রত প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বর্তমানে স্কুল কলেজে পরীক্ষা চলছে।ঘন লোডশেডিং এর কারণে, তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অন্য দিকে বিদ্যুৎ এর ভেলকিবাজির কারণে এবং বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ছোট, বড় ব্যবসা,শিল্প প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর ব্যাবহার করতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে অতিরিক্ত ব্যায়। এধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট কে কৃত্রিম সংকট আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্হানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর ব্যাবস্হা
নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসুচি দেওয়ার ও হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গত তিন মাস ধরে এই লোড শেডিং অব্যাহত আছে।সবচেয়ে দু:খ জনক ব্যাপার হচ্ছে এলাকায় বিদ্যুত সরবরাহ না থাকলে ও গ্রাহকদের কাছে আসছে ভুতুরে বিল এ নিয়েও সংকট তৈরি হচ্ছে।
এমনিতে রায়পুরার মানুষ একটু মেজাজি ভিন্ন টাইপের।এই ভুতুড়ে বিদ্যুত বিল আর লোড শেডিংয়ের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে কোন সময় পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের ওপর ক্ষেপে গিয়ে অঘটন ঘটিয়ে বসে তা বলা মুশকিল।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব লাইন মেরামতের কাজ শেষ করে লোডশেডিংয়েের বেড়াজাল থেকে গ্রাহকদের নিস্কৃতি দিতে পারবেন ততই মঙ্গল।অন্যথায় গ্রাহকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশংকাই বেশি।
