মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026 · 23:26
সত্য ও ন্যায়ের পথে আপসহীনজনতার কণ্ঠস্বর, মানুষের খবর

১২ স্ত্রী ১০২ সন্তান ৫৭৮ নাতি-পুতি নিয়ে বিশাল সংসার গড়ে তুলেছেন উগান্ডার মুসা কাসাহিয়া কাসেরা।

25 May 2026 • বিশ্ব সংবাদ

১২ স্ত্রী ১০২ সন্তান ৫৭৮ নাতি-পুতি নিয়ে বিশাল সংসার গড়ে তুলেছেন উগান্ডার মুসা কাসাহিয়া কাসেরা।

বিনোদন ডেস্ক:
উগান্ডার কৃষক মুসা হাসাহিয়া কাসেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত বিশ্বের সবচেয়ে ফারটাইল পুরুষ হিসেবে। দাবি করা হয় তার ১২ জন স্ত্রী ১০২ সন্তান এবং ৫৭৮ এর বেশি নাতি-নাতনি রয়েছে।যেন তারপরিবারের সদস্য দিয়ে গড়ে উঠেছে একটি গ্রাম।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক দম্পতির কাছেই সন্তান নেওয়া সহজ বিষয় নয়। স্বাস্থ্যগত সমস্যা, মানসিক চাপ কিংবা বন্ধ্যাত্ব বিভিন্ন কারণে পরিবার পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে অনেক জটিল হয়ে উঠেছে। ঠিক এমন এক সময়ে আফ্রিকার একটি গ্রামের সাধারণ কৃষককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ তার পরিবারের আকার যেন ছোটখাটো একটি গ্রামের সমান।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, মুসা হাসাহিয়ার বয়স প্রায় ৬৮ বছর। তিনিআফ্রিকার দেশ উগান্ডার একজন সাধারণ কৃষক। সাধারণ জীবন যাপন করলেও তার পরিবার এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। স্হানীয়দের ভাষায়, তার বাড়িতে সব সময় উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। সদস্যদের সংখ্যা এত বেশি যে প্রতিদিন রান্না, খাবার পরিবেশন ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় একসঙ্গে বসে খেতে পারে না।মুসার ভাষ্য মতে প্রথম ও শেষ সন্তানের নাম তার মনে থাকলেও মাঝের অনেক সন্তানের নাম তিনি ভুলে যান। তাই তিনি একটি পুরনো নোট বুকে সন্তান ও নাতি-নাতিদের নাম লিখে রাখেন।
কিভাবে এত বড় হল পরিবার?
মুসার দাবি, তিনি বহু বছর ধরে পরিবার বড় করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। তার স্ত্রীদের অনেক কে তিনি অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। অনেক গ্রামীণ সমাজে আগে বড় পরিবারকে শক্তি ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো।কৃষি কাজে বেশি মানুষের অংশগ্রহণ ও বড় পরিবারের অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দশকআগে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বহু সন্তান নেওয়ার ছিল সাধারণ ঘটনা।তবে শিক্ষা স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা সেই প্রবণতা অনেক কমেছে। বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে উগান্ডাসহ সাব- সাহারান আফ্রিকার কিছু দেশে এখনো জন্মহার তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে ১০২ সন্তানের মত ঘটনা এখন অত্যন্ত বিরল।
প্রতিবেদন অনুসারে, এত বড় পরিবার পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মুসা তিনি জানান, কৃষিকাজ করেই পুরো পরিবার চলে। পরিবারের সদস্যরাও মাঠে কাজ করেন। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত মানুষের দায়িত্ব নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
তিনি এখন আর সন্তান চান না বলেও জানিয়েছেন। এমনকি স্ত্রীদের পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যয় দিন দিন বাড়ছে।

মুসার মতে, আগে বিষয়টা সহজ মনে হলেও এখন পরিবার অনেক বড় হয়ে গেছে।
মুসার গল্প ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কেউ আবার রসিকতা করছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন এই মানুষ একাই একটা গ্রাম ঘরে ফেলতে পারেন। আরেকজন মন্তব্য করেছেন এখন একটা সন্তান বড় করতেই মানুষ হিম সিম খাচ্ছে। আর উনি ১০২ সন্তান বড় করেছেন।অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন এত বড় পরিবারের প্রতিটি সন্তানের যথাযথ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব কী, না?
বিভিন্ন প্রতিবেদনে মুসার স্ত্রী সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।। কোথাও বলা হয়েছে তার ১২জন স্ত্রী রয়েছে আবার অনেক ভাইরাল ভিডিও সাক্ষাৎকারে ৮জন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আলোচনায় ১২ স্ত্রী ও ১০২ সন্তানের তথ্যই বেশি প্রচারিত হচ্ছে।
জনসংখ্যাবিদদের মতে আধুনিক সময়ে বড় পরিবার শুধু সামাজিক নয় নৈতিক চাপও তৈরি করে। বর্তমান বিশ্বের অনেক দেশেই পরিবার ছোট রাখার প্রবণতা বেড়েছে। কারণ একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বড় ব্যয়ের প্রয়োজন হয়।
তবে সমাজবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে এখনও পরিবারকে শ্রমশক্তি হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে কৃষি নির্ভর সমাজে বেশি সন্তান মানে বেশি কর্মকম মানুষ। প্রতিবেদন অনুসারে মুসা হাসাহিয়া কাসেরার গল্প নিঃসন্দেহে অবাক করার মত। তবে এটি একটি শুধু বড় পরিবারের গল্প নয়; বরং আফ্রিকার গ্রামীণ সমাজ, জনসংখ্যা, দারিদ্র্য, শিক্ষা, পারিবারিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক বাস্তবতার একটি প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব যখন ছোট পরিবার ও পরিকল্পিত জীবনের দিকে এগোচ্ছে তখন উগান্ডার এই কৃষকের পরিবার যেন বিশ্ববাসী কে অন্য বাস্তবতার গল্প শোনাচ্ছে।

সূত্র :দি হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভির প্রতিবেদন। অবলম্বনে।
ছবি: সংগৃহিত।
তথ্যঋণ:
# দৈনিক ইত্তেফাক।

আরও পড়ুন

প্যারিসের উপকণ্ঠে ভয়াবহ দাবানল: জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যাহত যোগাযোগ ব্যবস্থা।

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

মৃত্যুর সময় একটি কানাকড়ি কিংবা এক টাকার সম্পদ ও রেখে যাননি বিশ্ব বিখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী শক্তিধর ভারতের প্রেসিডেন্ট এপিজে আবদুল কালাম।