:আশ্চর্য্য হলেও সত্যঃ আমেরিকার যুদ্ধ বিমান “এফ ফিফটিন ও এফ সিক্সটিন ( ফাইটার জেট) ইঞ্জিনের ডিজাইনার এন্ড রিসার্চার এক বাঙালি বিজ্ঞানী!
07 Sep 2026 • জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ।

সায়েন্স ডেস্ক|জনতার দেশ:
মেধা পাচারের দেশে আমরা শুধু দর্শক। মেধা রপ্তানির এক করুণ বাস্তবতা আমাদের প্রতিনিয়ত ভাবায়। যে দেশের সন্তানেরা আজ বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছে আমরা এবং বর্তমান প্রজন্ম তাদের কতটুকু চিনি বা জানি।আমাদের বিজ্ঞান ভিত্তিক জ্ঞানের পরিসীমাই বা কতটুকু?
আমরা কি জানি ‘ যুক্ত রাষ্ট্রের এফ- ১৫,এফ-১৬ ঈগল ফ্যালকন ফাইটারের ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে যিনি ধাতু আবিষ্কার করেছেন সেই ব্যক্তিটি কে? বিশ্বখ্যাত এই বিজ্ঞানী আর কেউ নন ‘তিনি বাংলাদেশী আমেরিকান অ্যারোস্পেস মেটেরিয়াল গবেষক ও ডিজাইনার ড. আব্দুস সাত্তার খান।
কে এই আব্দুস সাত্তার খান?আসুন জেনে নেয়া যাক।
জন্ম ও শিক্ষা জীবনঃ
তিনি ১৯৪১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। ডক্টর খান রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে পড়াশুনা শেষ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে বিএসসি সম্মান এবং ৬৩ সালে প্রথম স্থান অধিকার করে এমএসডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।১৯৬৪ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্ট ক্যাথারিন্স কলেজে’অধ্যয়নের জন্য বৃত্তি লাভ করে ১৯৬৮ সালে রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইটের ভয়াবহতা পেরিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন। ওই বছরেই তিনি ধাতব প্রকৌশল নিয়ে গবেষণার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারিজামান।
তিনি নাসা ইউনাইটেড টেকনোলজিস্ট এবং অ্যালস্টমে কাজ করার সময়ে চল্লিশটিরও বেশি শংকর ধাতু উদ্ভাবন করেছেন। এই শংকর ধাতুগুলো বিমানের ইঞ্জিনকে আরো হালকা করেছে যার ফলে উড়োজাহাজের পক্ষে আরো দ্রুত উড্ডয়ন সম্ভব হয়েছে ট্রেনকে আরো গতিশীল করেছে। তার উদ্ভাবিত সংকর ধাতু গুলো মার্কিন জেট বিমান এফ- ফিফটিন এফ – সিক্সটিনে জ্বালানি শাস্ত্রয়ে ভূমিকা রেখেছে। তিনি অনেক দিন “ফ্লোরিডা টেস্ট ইউনিভার্সিটির”যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন।
পুরস্কারও অর্জনঃ
আব্দুস সাত্তারের গবেষণা এবং মহাকাশে তার উদ্ভাবনী প্রক্রিয়া প্রয়োগে সফলতার জন্য তিনি নাসা, আমেরিকান বিমান বাহিনী, ইউনাইটেডটেকনোলজি এবং অ্যালস্টম থেকে অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বৃটেনের রয়েল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রির একজন পেশাদার রসায়নবিদ এবং ফেলো নির্বাচিত হন।তিনি তার গবেষণার স্বীকৃতি হিসাবে ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্য থেকে পেশাজীবী বিজ্ঞানী হিসেবে “রয়েল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রি” এবং এর আগে ১৯৯৬ সালে যুক্তরাজ্যের রয়েল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রি থেকে নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সোসাইটি অব মেটালসের ও সদস্য তিনি। ১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিমান এফ ১৫ এব্ং এফ১৬ এর ইঞ্জিনের জ্বালানি খরচ কমানোয় বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ইউনাইটেড টেকনোলজিস স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড পান।
১৯৯৪ সালে পান উচ্চ গতি সম্পন্ন জেট বিমানের ইঞ্জিন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে অবদানের জন্য” ইউনাইটেড টেকনোলজিস রিসার্চ সেন্টার অ্যাওয়ার্ড অফ এক্সিলেন্স” পদক।
১৯৯৩ সালে পান “প্রাটএন্ড হুইটনির”বিশেষ আওয়ার্ড। একজন পেশাদার বিজ্ঞানী থেকে অপশন নেওয়ার পর তার বিজ্ঞানের সেবা থেমে থাকে নি। এই সময়ে আব্দুস সাত্তার ফ্লোরিডার টেস্ট ইউনিভার্সিটিতে যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের গবেষক ও ষান্মাসিক অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এখানে কাজ করার সময় কার্বন ন্যানো টেকনোলজি সম্পর্কিত বস্তগত বিজ্ঞান ও জৈব রাসায়নিক প্রযুক্তির প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। যার কারণে তার নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সামাজিক ক্ষেত্রে অবদান
আব্দুস সাত্তার খান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং এশিয়ানদের স্থানীয় সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রলয়ংকরি বন্যার সময় তিনি রেড ক্রসের মাধ্যমে ৬১ হাজার ডলার বাংলাদেশে পাঠান।তিনি টেক্সাসের লামার বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি যুগসূত্রও স্থাপন করে দিয়েছেন যার কারণে লাম্মার বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা বিশেষ সুযোগ পেয়ে থাকেন।
তার গবেষণামূলক ৩১ টি প্যাটেন্ট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
এই বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী বিশ্বের সমগ্র জাতি ও ২০ কোটি বাঙালিকে কাঁদিয়ে ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি —
Lee Memorial Park,Fort Myers,Florida (USA)তে অনন্ত নিদ্রায় শায়িত।
ছবি: সংগৃহিত।
তথ্য সূত্র:
#The daily star
# Team,land of free web devolopement.
#Wikipedia
# jibonbrittanto.com
অনুলিখন :
মো: মাহবুবুর রহমান খান,
সম্পাদক -প্রকাশক,দৈনিক জনতার দেশ।
