আজ ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছর পেরিয়ে দশম বছরে পদার্পণ সংকট নিরসন ও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব!
25 Aug 2026 • জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ।

মো: মাহবুবুর রহমান খান :
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পুণর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো নিজ দেশে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন।টেকসই উন্নয়নই হতে পারে এর সুস্পষ্ট সমাধান।
আঞ্চলিক ফোরামগুলোতে কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখতে সরকার ছয় দফা কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে। পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সংকট যেন কোনভাবেই দ্বিতীয় দশকে না গড়ায় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন এই মানবিক দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেয়।
‘সেভ দ্য চিল্ড্রেনের’আজকের প্রতিবেদন অনুযায়ী কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে প্রতি তিনজন রোহিঙ্গার মধ্যে একজন তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে।
২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘ ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো joint response plan এর অধীনে $৭১০.৫ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তার আবেদন করেছে, আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশ কম।
আন্তর্জাতিক অর্থায়নের এই ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পুষ্টির মত মৌলিক সেবাগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তা এবং আরাকান আর্মির (AA)মধ্যে চলমান তীব্র সংঘর্ষের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। উল্টো সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার থেকে আরো বহু রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে চেষ্টা করছে।
চুক্তি কেবল কাগজে কলমে, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হলেও মিয়ানমার সরকারের অনীহা ও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
*The daily star এর প্রতিবেদন অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে প্রত্যাবাসন আটকে থাকায় কক্সবাজারের ক্যাম্প গুলোতে অপরাধমূলক কর্মকান্ড, মাদক ও মানব পাচার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল ক্রমাগত বাড়ছে। যা স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর উপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী কক্সবাজার ও ভাসানচর এর ৩৩ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগ জনক। এটি বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সরকারি তথ্য ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্যাম্প গুলোতে বর্তমানে ৬ থেকে ১১টি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশনআর্মি(আরসা) আরএসও এবং মুন্না গ্রুপ অন্যতম। এই গোষ্ঠীগুলো ক্যাম্পের ভেতরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ শরণার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে রেখেছে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ অপরাধ ও সহিংসতার ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ক্যাম্পের ভেতরে টার্গেটেড কিলিং ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে।
ক্যাম্প গুলোতে ইয়াবা ও আইস সহ মাদক ও মানব পাচারের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে অনেক তরুণ রোহিঙ্গা অপরাধ কর্মকান্ড, মাদক ব্যবসা এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানব পাচারের ফাঁদে পা দিচ্ছে।
মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে রাখাইনের ৯০ ভাগ এলাকা এখন বিদ্রোহী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। সামরিক জান্তার সংগে কিছু রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা এবং সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ক্যাম্পের ভেতরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ অনুপ্রবেশের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পের প্রতিটি ব্লকে ওয়ারলেস টাওয়ার স্হাপন, ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং অপরাধীদের এক ক্যাম্প থেকে অন্য ক্যাম্পে পালিয়ে যাওয়া রোধ করতে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী জরুরি হয়ে পড়েছে।
ক্যাম্পের ভেতরে অপরাধ রুখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মানবিক সংস্থায় কর্মরত কর্মীদের জন্য রাতের বেলা ক্যাম্পে চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। পাশাপাশি ‘মেরিন ড্রাইভ’ সহ আশপাশের এলাকায় একাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে,ক্যাম্পের অতিরিক্ত জনঘনত্ব এবং অর্থায়নের অভাব এই নিরাপত্তার সংকটকে আরো উস্কে দিচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব :
জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি মোকাবেলা সহ এই চলমান সংকট নিরসনে রাষ্ট্র তথা সরকারের প্রধান ভুমিকা হবে এই জনগোষ্ঠীকে যত দ্রুত সম্ভব নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ তৈরি করে দেয়া।এ জন্য জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন গুলোকে অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করতঃ আমাদের কৃষি,জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে দ্রত পদক্ষেপ নেয়া।এমনিতে নিজ জনসংখ্যার চাপে,দেশে বেকারত্ব,অভাব-অনটন,দ্রব্যমূলের উর্ধগতিতে দিশেহারা দেশ।এর মাঝে “মরার ওপরে খরার ঘা”১০ লাখ রোহিঙ্গা যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ৩০ কোটি।ছাড়িয়ে গেছে। মিয়ানমার রাষ্ট্রের তুলনায় ৫ভাগের ১ ভাগ ক্ষুদ্র আয়তনের এতটুকু দেশে এই জনসংখ্যার ঘণত্ব মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা কে বিপর্যস্হ করে তুলেছে।
এহেন পরিস্থিতিতে গোটা দেশ খাদ্য,অর্থ,চিকিৎসা, বাসস্থান ও চরম নিরাপত্তা সংকটে আবর্তিত। পাহাড় কেটে, বনভূমি উজার করে, হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি জমি দখল করে পানির জলাধার রোধ করে প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু দের বসতি স্হাপনের ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।
উখিয়া,চকোরিয়া,টেকনাফ এখন পুরোটাই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আবাস ভূমিতে পরিণত হয়েছে।দেশে ক্রমাগত বাড়ছে অস্ত্র,মাদক,চোরাচালানের ব্যবসা।নির্ঘুম রাত পার করছেন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পর্যটন শিল্পের রাজধানী সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটকদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকিপূর্ণ স্পট।
তথ্য সূত্র
# দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা
# বাংলা ভিশন নিউজ ২৪.কম
# Spinger Nature Link
৳ parbattannews
ছবি: সংগৃহিত।
প্রতিবেদক- সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক জনতার দেশ ( অনলাইন পোর্টাল).
