ত্রিশালে এসআই নাহিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ!
09 Oct 2026 • বাংলাদেশ পুলিশ।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার সাবেক এসআই নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে নাজমুল হক নামে এক যুবককে অপহরণ, মারধর ও তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের করা অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে সোমবার ত্রিশাল থানায় মামলা রুজু হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ত্রিশালের বীররামপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হককে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড ওভারব্রিজের নিচ থেকে এসআই নাহিদ পারভেজসহ স্থানীয় সোহেল মিয়া, ফিরোজ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, নাজমুলকে একটি সিএনজিতে তুলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো ও মারধরের পর অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। পরে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নাজমুলকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতিতে নাজমুলের পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ওই দিন রাত আনুমানিক ২টার দিকে ত্রিশাল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
পরদিন ত্রিশাল থানায় অভিযোগ করা হলেও দীর্ঘ সময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি। পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি তাদের।
এরপর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করা হলে গত ২ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। তবে এসআই নাহিদসহ অভিযুক্তরা কেউ হাজির হননি। বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেয় লিগ্যাল এইড অফিস।
পরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হলে আদালত ত্রিশাল থানাকে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পর গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার মামলাটি রুজু করা হয়।
জানা গেছে, এসআই নাহিদ পারভেজ প্রায় দুই বছর ত্রিশাল থানায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে তাকে ময়মনসিংহ সদরের ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং অভিযোগ পাওয়ার পরও কেন দীর্ঘ সময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা।
তবে অভিযুক্ত এসআই নাহিদ পারভেজ ও অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
